About Me

আমার কাছে ‘নিজের সম্পর্কে ‘বলা খুবই কঠিন কাজ বলে মনে হয়। তারপরও কিছু কথা লেখার চেষ্টা করছি।

আমার নামঃ ______ _______
কি করিঃ আমি ডিসেম্বরে গ্রেজুয়েশন শেষ করে এখন _________ এর ____________ পদে আছি।আমার দেশের বাড়ি _____, যদিও আমার পুড়ো জীবণে ৩ বছরের বেশী থাকা হয়নি। বাবা সরকারী চাকুরীজীবি হউয়ার কারণে জেলায় জেলায় যাযাবরের মতো আমাদের থাকতে হয়েছে। আমি যখন আমার মায়ের পেটে ছিলাম তখন আমার বাবার পোষ্টিং কক্সেসবাজার ছিল। তাই আমার ডাক নাম আমার মা রেখেছিলো ‘সাগর’। খুব কাছের মানুষ ছাড়া সবাই অবশ্য আমাকে সাব্বির নামে ডাকে। আমার শৈশবের ৫ টি বছর কেটেছে রাঙ্গামাটিতে। আমার মা আমাকে ছোট বেলা হতেই কারো সাথে মিশতে দেইনি, তাই রাঙ্গামাটিতে থাকাকালীন ৫ টি বছর আমি একা একা পিপড়াদের সাথে খেলে পার করতে হয়েছে।

তারপর আমরা ২০০০ সনে কুমিল্লায় চলে আসি। রাঙ্গামাটির পাহাড় পর্বত দেখে অভস্ত্য হউয়া আমি কুমিল্লার সমতল ভূমিতে প্রথম ২ বছর একেবারেই মন বসাতে পারিনি। ফলসরূপ সেই সময় কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রতিটা শ্রেণীর, প্রতিটা শাখার, প্রতিটি পরিক্ষায় আমি ফেল করতাম। আমার পিছনে তখন আমার বাবার ঘুষের টাকা দিয়ে ৪ জন মাষ্টার রাখা হয়েছিল। যাদের মোট বেতন ছিল ৭ হাজার টাকা (সেই সময়ে)। মাষ্টারদের কাজ ছিল আমাকে স্কুলের পড়া গিলিয়ে দেওয়া। চারজন মাষ্টারের দুইজন আমাকে আসার পরপরই মারা শুরু করতো। আমি কিন্তু মোটেই দুষ্ট ছিলাম না। শুধু পড়তাম না দেখে আমাকে মারতো। এই মার খেতে খেতেই আমি মেট্রিক পাস করি ৪.৪৪ নিয়ে ব্যবসায় শাখা থেকে।

এরপর আমরা আমাদের দেশের বাড়ী ____ সদরে চলে আসি। আমার বাবা তখন রিট্যার্ডে চলে গিয়েছিল তাই আর্থিক অবস্থা আগের মতো সচ্ছল ছিল না। তাই আমি ৬০০ টাকা দিয়ে ইংলিশ আর একাউন্টিং ব্যাচে পড়া শুরু করি। আমি কলেজ করতাম না, কারণ কলজের কাউকেই চিনতাম না আমি। সারাদিন বাসাতেই থাকতাম। তাই একদিন বাথরুমে গিয়ে বাপের রেজার দিয়ে নিজের মাথা নিজেই কামিয়ে ফেললাম। না মাথায় পাগলামি ছিল না, টাক করেছিলাম, কারণ মনে হলো কেউ যখন আমাকে চিনে না তখন টাক করে ঘূরাঘুড়ি করলে কি সমস্যা ?

এরপর আমার সাথে পরিচয় হয় আমার বড় বোনের বান্ধবী তন্দ্রা বক্সীর। তন্দ্রা বক্সী ইন্টার পরীক্ষা দেওয়ার পর বেড়াতে এসেছিল মাসীর বাসায়। ওই মাসী আমাদের বাসার তিন তলায় ভাড়া থাকতেন। কাকতালীয় ভাবে আমার বড় বোন আবিষ্কার করে, তন্দ্রা বক্সীর সাথেই কুমিল্লা মহিলা কলেজে তিনি পরিচিত হয়েছিলেন। তারপর তন্দ্রা বকসীর আমাদের বাসায় আসা যাওয়ার হার ছত্রাকের মতো বেরে যায়। তন্দ্রা বক্সীর কারণেই আমার জীবণে একটা অভূত পরিবর্তন আসে। আমি ম্যট্রিক পাশ করার পরও noun কি জানতাম না। আমি মেয়েদের সাথে কথা কিভাবে বলতে হয় জানতাম না। আমি জানতাম না কিভাবে একটু একটু করে মনের অজান্তে শূন্যতা তৌরি হয়। সবই জানলাম, বুঝলাম এবং Noun কাকে বলে তা ও শিখলাম…

আমি ব্যক্তি জীবণে স্বপ্ন দেখতে ভীষণ ভালোবাসি। ক্যামেরার পিছনে কাজ করার স্বপ্ন হাজারো ব্যাস্ততায় বুনে যাচ্ছি একটু একটু করে…

একেবারেই অল্প কথায় এই ছিলাম আমি… আমার আমি…

নিচের ফর্মে আপনি যেকোনো মন্তব্য আমাকে করতে পারেন আপনার পরিচয় গোপন রেখে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s