My New GIF Project; ‘Gato-25’

Gato-25

Gato-25

এই GIF এনিমেশন করার আইডিয়া গতকাল আমার মাথায় আসছিলো। মজার বিষয় হচ্ছে পুরো থিমটা আমার মাথায় আসছিলো ঘুমের মধ্যে। আমি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় ব্যাক করে সন্ধ্যার দিকে ২ ঘন্টার জন্য ঘুমিয়েছিলাম। স্বপ্নের মধ্যে দেখলাম আমি GIF এনিমেশন বানাচ্ছি আমার পছন্দের ক্যারেক্টার নিয়ে। ঘুম ভেঙ্গে যায় রাত ১০ টায়। ঘুম ভাঙ্গার পর মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল এটা ভেবে যে এনিমেশনটি আমি স্বপ্নে বানিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরই আমার খেয়াল হয় যে যা স্বপ্নে দেখা সম্ভব তা বাস্তবে সত্যি করাও সম্ভব। এরই প্রজেক্ট হিসেবে এটা বানিয়েছি আজ অফিসে বসে বসে কাজের ফাকে ফাকে… আশা করি সামনে এর পর যে স্বপ্ন দেখবো সেটা বিশাআআআআল বড় হবে 😀

Advertisements

সাপ্তাহিক কড়চা- ২

এই সপ্তাহের প্রথম দিন শুরু হয়েছিল আমার সকাল ৯ টা কি ১০টা থেকে। আমি, অর্পন আর রিজভী ঘুমিয়েছিলাম আমার রুমের সেমি ডাবল খাটটাতে আড়াআড়ি ভাবে। তার আগের দিন রাতে ঘুমাতে ঘুমাতে বেজে গিয়েছিল সকাল ৬টা। যদিও সেদিন রাতে আমি কিছুই করি নাই, পিসিতে বসে ফুটবল খেলছিল অর্পণ দাদা, আর রিজভী। আর আমি শুয়ে শুয়ে তখন মোবাইলে গুঁতাগুঁতি করছিলাম আপন মনে। আমার কিছু মেজের সমস্যার মধ্যে একটা সমস্যা হচ্ছে, আমি ঘুমানো অবস্থাতেও আশেপাশের সকল প্রকার শব্দও খুব ভালোভাবে শুনতে পাই। যেসব শব্দের সাথে পরিচিত থাকি, ওসব শব্দে আমার ঘুমের কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু অপরিচিত নতুন কোনো শব্দ শুনতে পাওয়া মাত্র আমার ঘুম চট করে ভেঙ্গে যায়। কেউ যদি চুপ চাপ করেও রুমে ঢুকে, সেক্ষেত্রেও আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। একটা মজার জিনিস কি জানেন, মনে করেন আপনি আমার রুমে জেগে আছেন, আর আমি ২ ঘন্টা ধরে ঘুমাচ্ছি। এখন মনে করেন সেই সময় আপনি আমাকে একটা প্রশ্ন করলেন… আমি কিন্তু সাথে সাথেই আপনার প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিব। আপনি বুঝতেও পারবেন না, আমি কি আদো ঘুমাচ্ছিলাম নাকি না। আর এই কারণেই ফেব্রুয়ারী মাস থেকে আমাকে গড়ে ৫-৬ ঘন্টার মতো ঘুমাতে হচ্ছে। কারণ আমার বন্ধু রিজভী গত ফেব্রুয়ারী থেকে আমার সাথে থাকছে, আর সে ভোর ৫ টা ৬ টার আগে ঘুমাতেই যায় না। আর আমাকে ঘুম থেকে উঠতে হয় সকাল সাড়ে ছয়টা কি সাতটায়।
প্রতিদিন অফিস থেকে বাসায় আসার পথে ভাবি আজ বাসায় যেয়ে ১০ টার মধ্যে ঘুমিয়ে পরবো। তারপর ফাও আলাপ, রাতের খাবারে অপেক্ষা আর বিড়ি টানতে টানতে বেজে যায় ১১ টা। তারপর ১১ টা ৩০ থেকে শুরু হয় আমার ঘুম আয় আয় অবস্থা। এই আয় আয় করতে করতেই বেজে যায় ১ টা… যাইহোক শুক্রবারে আমার যেহেতু অফিস নাই, আর অফিস যেহেতু নাই, তাহলে ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠার কোনো বাধ্যবাদকতা নাই, আর যেহেতু বাধ্যবাধকতা নাই, সেহেতু যেমন খুশী তেমন সাজোর মতো যখন খুশী তখন ঘুমাও নীতিতে ঘুমিয়েছিলাম সকাল ৬ টায়। ভেবেছিলাম উঠবো অনেক লেট করে… কিন্তু আফসোস… বড়ই আফসোস… ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল সকাল ৯টায় !!

শনিবারের প্রথম আলো পত্রিকার সাথে ছুটির দিনে ক্রোড়পত্রে মাঝে মাঝে বিখ্যাত ব্যাক্তিদের সাক্ষাতকার দেওয়া হয়। ওখানে একটা প্রশ্ন এরকম থাকে যে, ‘বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আপনি কোন তিনটি জিনিস সাথে রাখেন ?’ কেউ কেউ বলে, মোবাইল,

এই সপ্তাহের প্রথম দিন শুরু হয়েছিল আমার সকাল ৯ টা কি ১০টা থেকে। আমি, অর্পন আর রিজভী ঘুমিয়েছিলাম আমার রুমের সেমি ডাবল খাটটাতে আড়াআড়ি ভাবে। তার আগের দিন রাতে ঘুমাতে ঘুমাতে বেজে গিয়েছিল সকাল ৬টা। যদিও সেদিন রাতে আমি কিছুই করি নাই, পিসিতে বসে ফুটবল খেলছিল অর্পণ দাদা, আর রিজভী। আর আমি শুয়ে শুয়ে তখন মোবাইলে গুঁতাগুঁতি করছিলাম আপন মনে। আমার কিছু মেজের সমস্যার মধ্যে একটা সমস্যা হচ্ছে, আমি ঘুমানো অবস্থাতেও আশেপাশের সকল প্রকার শব্দও খুব ভালোভাবে শুনতে পাই। যেসব শব্দের সাথে পরিচিত থাকি, ওসব শব্দে আমার ঘুমের কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু অপরিচিত নতুন কোনো শব্দ শুনতে পাওয়া মাত্র আমার ঘুম চট করে ভেঙ্গে যায়। কেউ যদি চুপ চাপ করেও রুমে ঢুকে, সেক্ষেত্রেও আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। একটা মজার জিনিস কি জানেন, মনে করেন আপনি আমার রুমে জেগে আছেন, আর আমি ২ ঘন্টা ধরে ঘুমাচ্ছি। এখন মনে করেন সেই সময় আপনি আমাকে একটা প্রশ্ন করলেন… আমি কিন্তু সাথে সাথেই আপনার প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিব। আপনি বুঝতেও পারবেন না, আমি কি আদো ঘুমাচ্ছিলাম নাকি না। আর এই কারণেই ফেব্রুয়ারী মাস থেকে আমাকে গড়ে ৫-৬ ঘন্টার মতো ঘুমাতে হচ্ছে। কারণ আমার বন্ধু রিজভী গত ফেব্রুয়ারী থেকে আমার সাথে থাকছে, আর সে ভোর ৫ টা ৬ টার আগে ঘুমাতেই যায় না। আর আমাকে ঘুম থেকে উঠতে হয় সকাল সাড়ে ছয়টা কি সাতটায়।
প্রতিদিন অফিস থেকে বাসায় আসার পথে ভাবি আজ বাসায় যেয়ে ১০ টার মধ্যে ঘুমিয়ে পরবো। তারপর ফাও আলাপ, রাতের খাবারে অপেক্ষা আর বিড়ি টানতে টানতে বেজে যায় ১১ টা। তারপর ১১ টা ৩০ থেকে শুরু হয় আমার ঘুম আয় আয় অবস্থা। এই আয় আয় করতে করতেই বেজে যায় ১ টা… যাইহোক শুক্রবারে আমার যেহেতু অফিস নাই, আর অফিস যেহেতু নাই, তাহলে ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠার কোনো বাধ্যবাদকতা নাই, আর যেহেতু বাধ্যবাধকতা নাই, সেহেতু যেমন খুশী তেমন সাজোর মতো যখন খুশী তখন ঘুমাও নীতিতে ঘুমিয়েছিলাম সকাল ৬ টায়। ভেবেছিলাম উঠবো অনেক লেট করে… কিন্তু আফসোস… বড়ই আফসোস… ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল সকাল ৯টায় !!

শুক্রবার

The_Curious_Case_Of_Benjamin_Button_WS_R1_2008-front-www.GetCovers.net_

শুক্রবারে দেখেছিলাম The Curious Case of Benjamin Button। চলচিত্রটি একটা অসাধারণ কনসেপ্ট এর উপরে দাঁড় করিয়ে বানানো হয়েছে। আমার জীবণে আমি এই ধরণের কনসেপ্ট নিয়ে এই পর্যন্ত কোনো ছবি দেখিনি, সামনেও হয়তোবা দেখবো না। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছে ব্রাড পিট, আর তা পরিচালনা করেছে ডেভিড ফিঞ্চার। ডেভিড ফিঞ্চারকে চিনেছেন তো ?
Fight Club, Seven, The Girl with the Dragon Tatto, The Social Network, Panic Room, The Game, Zodiac

এর মতো অসাধারণ সব চলচিত্রের পরিচালকের নাম হচ্ছে ডেভিড ফিঞ্চার। আর তার পরিচালনার কথা কি বলবো !! যারা তার একটা ছবিও দেখে থাকবে তাঁরা ভালোভাবেই বুঝতে পারবে তার ক্যামেরার পিছনের চোখ কি জিনিস। তার প্রতিটি ছবি দেখতে বসলে আপনি একটা টান অনুভব করবেন, যে টানের কারণে আপনার বার বার ইচ্ছে করবে জানতে যে মুভির শেষাংশে কি চমক অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। আর শেষে যেই চমকটা পাবেন… আমি তা হরফ করে বলতে পারি আপনি তা কল্পনাও করেন নি কখনো। আর এই ডেভিড ফিঞ্চারই পরিচালনা করেছে চলচিত্রটি।

ছবিটি শুরু হওয়ার একটু পরেই বুঝতে পারলাম এর গল্প কোনো না কোনো লেখকের গল্প থেকে নেওয়া। তা না হলে এতোটা নিখুত হতে পারে না কোনো স্ক্রিপ্ট। তাই মুভিটা পজ দিয়ে নেটে যেয়ে দেখলাম কোথা থেকে স্ক্রিপ্টটা নেওয়া। দেখলাম ছবির কনসেপ্ট নেওয়া হয়েছে ১৯২২ সালে প্রকাশিত হওয়া ছোটগল্প অবলম্বনে। ছোটগল্পটার নাম অনুসারেই মুভিটির নাম রাখা হয়েছে The Curious Case of Benjamin Button।

benjamin_cover

গল্পটি ডাউনলোড করতে পারবেন নিচের এড্রেস থেকেঃ http://www.classicly.com/books/4420/download_and_add_to_library/pdf

তারপর আবার শুরু করলাম দেখা,… মুভিটি শুরু হয়েছে… আমি যদিও সাবটাইটেল সহকারে মুভিটি দেখছিলাম তারপরও একটু পর পর ব্যাকওয়ার্ডে টেনে টেনে ডায়ালগ গুলো শুনতে হচ্ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম খুব ভালোভাবেই কিন্তু ডায়লগ গুলো একটু পর পর এতো ভালো লাগছিল যে, বার বার টেনে টেনে দেখছিলাম। ঠিক যেই কাজটা করেছিলাম Forest Gump মুভিটা দেখার সময়। তাই একসময় আগ্রহবোধ করলাম স্ক্রিপ্ট রাইটার কে নিয়ে। তাই আবার পজ দিলাম মুভিটির কিছু যাওয়ার পর। দেখলাম মুভিটির স্টোরিলাইন লিখেছে Eric Roth and Robin Swicord। এখন বলেন Eric Roth কে চিনেছেন তো ?

XrjW1CdrKhndgpbiT3TfZZPao1_500

Eric Roth ই হচ্ছে ফরেস্ট গাম্প মুভির স্ক্রিনরাইটার। যে মুভির জন্য সে ১৯৯৪ সালে অস্কার পেয়েছিল। আর আরেকটা জিনিস বলে রাখা ভালো, আর তা হচ্ছে, আপনি মুভিটার মাঝামাঝি এসে লক্ষ্য করবেন যে মুভিটার সাথে ফরেষ্ট গাম্প মুভির একটা ছাপ রয়েছে। আর অনেক কিছুই মিলাতে পারবেন হয়তো। কি কি মেলাতে পারবেন তা আর বলতে চাচ্ছি না, না হয়তো রিভিউতে স্পয়লার হয়ে যাওয়ার একটা আসংখ্যা থেকে যেতে পারে। তাই আমি শুধু শুধু রিস্ক নিতে চাচ্ছি না।

এখন মুভিটার বিভিন্ন উল্ল্যখযোগ্য দিক নিয়ে কথা বলা যাক। প্রথমেই যে দিকটি লেখার জন্য হাতটা নিশপিশ করছে, তা হলো এই ছবির মেকাপ এবং ভিজুয়্যাল ইফেক্টস এর কাজ। ছবির প্রচ্ছদে বা পোস্টারটি লক্ষ্য করলে আপনি দেখবেন সেখানে ব্রাড পিট আর কেট ব্লাঞ্চেট এর মুখের ছবি দেওয়া। আমিও মুভিটা শুরু করার আগে পোস্টার দেখেছিলাম। তাই মুভিটা দেখা শুরু করার পর থেকেই ব্রাড পিট কে খোঁজা শুরু করলাম। এক পর্যায়ে এসে আবার মুভিটা পজ দিলাম। এবার কোন ক্যারেক্টারে কে কে অভিনয় করেছে তা দেখার জন্য IMDB তে গেলাম। এবং আমি যেয়ে মোটামোটি অবাকই হয়েছিলাম। কারণ এতোক্ষণ ধরে যে কেন্দ্রীয় চরিত্র ফুটে উঠেছিল মুভিতে, সে ই কিনা ব্রাড পিট !!। কিন্তু আমি বুঝতেই পারিনি তখনো। টিনের চালে কাক, আম তো অবাক !!

Benjamin-Button-3220618142_02b6bb2907

আমি নিশ্চিত আপনিও অবাক হবেন… শুধু একবার নয় বরং বার বার… মুভিটির পরতে পরতে চমকিত হবেন, এবং মনের অজান্তেই মনে মনে তালি দিয়ে উঠবেন ভিজুয়াল ইফেক্টস আর মেকাপের অসাধারণ কারসাজি দেখে। এবং এজন্যই মুভিটি ৮১তম এক্যাডেমি এওয়ার্ডসে ১৩ টি ক্যাটাগরির মধ্য হতে ৩ টি ক্যাটাগরিতে অস্কার পায়। আর এই তিনটি ক্যাটাগরির মধ্য হতে Best Makeup এ একটি আর Best Visual Effects এ একটি করে অস্কার পায় মুভিটি। কেন এই দুই ক্যাটাগরিতে পেলো তার উত্তর আপনি মুভিটি দেখার পর অবশ্যই ধরতে পারবেন।

মুভির সারসংক্ষেপ:


মুভিটি শুরু হয় মৃত্যু পথযাত্রী এক বৃ্দ্ধা আর তার মেয়ের কথোপকথন মধ্য দিয়ে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে বৃ্দ্ধা তার মেয়ে ক্যারোলিন কে বলে ‘বেঞ্জামিন বাটন’ নামক এক ব্যাক্তির ডায়েরি পড়ে শোনানোর জন্য। আর ক্যারোলিনের পড়ে শোনানোর মধ্য দিয়েই আস্তে আস্তে পর্দায় ফুটে উঠে বেঞ্জামিনের জন্ম থেকে শুরু করে তার পরবর্তী জীবণের অধ্যায়গুলো। ডায়েরিটি ক্যারোলিন পড়া শুরু করলেও আস্তে আস্তে বেঞ্জামিনের নিজের কন্ঠস্বর ভেসে উঠে গল্পের কথক হিসেবে…

বেঞ্জামিন জন্মেছিল বিদঘুটে চেহেরা এবং অঙ্গ নিয়ে। তার চামড়া এবং অঙ্গ প্রতঙ্গের ধরণ ছিল ৭০ উর্দ্ধো বয়ষ্কের মতো। তার মা তার জন্মের কিছুক্ষণ পরেই মারা যায়। আর তার বাবা তাকে সেদিনই ফেলে রেখে আসে একটা নার্সিং হোমের সিড়িতে। নার্সিং হোমের কর্মী ‘Queenie’ এবং Tizzy” Weathers তাকে খুঁজে পায়। আর নিঃসন্তান Queenie সিদ্বান্ত নেয় যে বাচ্চাটাকে সে নিজের মনে করে বড় করে তুলবে। মায়ের ভালোবাসায় দূর্বল ও বৃদ্ধ (!!) বেঞ্জামিন বড় হতে থাকে নার্সিং হোমে। বেঞ্জামিনের বয়স যখন চার বছর, তখনই সে বৃদ্ধদের মতো হুইল চেয়ারে ঘুড়াঘুড়ি করতে হতো দূর্বল জোড়া হাত নিয়ে। যদিও তার বয়স ছিলো ৪, তারপরও তাকে দেখতে এবং চলাফেরা ছিল বৃদ্ধদের মতো। আস্তে আস্তে তার বয়স বাড়তে থাকে, আর সাথে সাথে তারও শারিরীক পরিবর্তন দেখা দিতে থাকে… কমতে থাকে তার বয়স… !! তারপর !!

।।………………………………………।।

শনিবার

গতকাল অফিসে সবার সাথে ভাব ধরে বসেছিলাম। আমি সাধারণত সব সময়ই ফাজলামি করি সবার সাথে, কিন্তু গতকাল ছিলাম একেবারেই চুপ-চাপ। আমার ল্যাপটপ নিয়েই সারাদিন অফিসে পরেছিলাম একাকি… চুপচাপ থাকার পিছনে কোনো আলাদা কারণ ছিলো না। আমার মনে হয় সবার সাথেই মাঝে মাঝে এরকম হয়… যখন হয় তখন আর কারো সাথেই কথা বলতে ইচ্ছে করে না, এমন কি নিজের সাথেও না। সেই সময়টাতে কোনো কিছু যেমন ভালোও লাগে না, তেমনি কোনো কিছু তেমন খারাপও লাগে না। শুধু মনে হয় সময় আসছে, সময় যাচ্ছে… ১ টা… ২ টা… ৩ টা… ৫টা… ৭টা…
…ঠিক ৭ টা ১০ এ আমি অফিস থেকে বের হয়েছিলাম। অফিস থেকে আমার বাসা দূর আছে যেমন আবার কাছেও আছে তেমন। চার পাঁচ ভাবে এবং রাস্তায় আমার বাসায় যাওয়া সম্ভব। আমার বাসা মেরুল বাড্ডায় বোদ্ধ মন্দিরের বিপরীত পাশে, আর আমার অফিস কাওরানবাজার সোনারগাঁও হোটেলের মোড়ে। মালিবাগ, হাতিরঝিল, মহাখালী, এই তিন রুটেই আমার বাসায় যাওয়া যায়।

রুট ৪: বাংলা মটর-মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ রেলগেট-রামপুরা-মেরুল বাড্ডা
মোট পথঃ ৬.০৬ কি.মি.

এখন আমি যদি মৌচাক-মালিবাগ রেলগেট হয়ে বাসায় যাই, তাহলে আমাকে প্রথমে ৬ নম্বার বাসের জন্য অপেক্ষা করা লাগবে অফিসের সামনে থেকে। ৬ নাম্বার বাসের আবার A, B, C তিন ক্যটাগরির বাস আছে। আমার অফিসের সামনে থেকে ৬ নাম্বারের C আমাকে মৌচাক নামিয়ে দিবে (যদি ৬ নাম্বার বাসের তব দেখা পাই, এবং উঠিবার সুযোগ পাই)। তারপর মৌচাক থেকে সুপ্রভাত/ বন্ধু/ ভিক্টর পরিবহণ/ এ দস্তা দস্তি করে উঠা লাগবে (যদি উঠিবার সুযোগ পাই)। তারপর বান্দর ঝোলা ঝুলতে ঝুলতে সোজা বাসার সামনে নামতে হবে। এখন কথা হচ্ছে মোট কতক্ষণ লাগবে এই রুটে আসতে ?
৬ নাম্বার বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে গড়ে ১৫ মিনিট (কমে), তারপর মৌচাক পৌঁছাতে লাগবে ২০ মিনিট (কমপক্ষে)। তারপর মৌচাক থেকে মেরুল পৌঁছাতে লাগবে ৩০ মিনিট (সর্বোচ্চ)। তারমানে এই রুটে এভাবে আমার বাসায় যেতে সময় লাগে ১ ঘন্টা ১০ মিনিট থেকে ১৫ মিনিট।

রুট ৩: এফডিসি-৭ রাস্তার মোড়-মহাখালী-গুলশান ১-বাড্ডা লিঙ্ক রোড- মেড়ুল
মোট পথঃ ৭.৫২ কি.মি.

অফিসের প্রায় সামনে থেকেই বসুন্ধারা সিটির সামনে হয়ে এফডিসি ক্রস করে মহাখালী আমতলী পার হয়ে গুলশান-১ দিয়ে যেয়ে লিঙ্ক রোডের মোড়ে যদি আমি এক গাড়িতে ঝুলে নামতে চাই… তাহলে আমাকে উঠতে হবে ‘উইনার’ এ। ‘উইনার’, ‘দিবানিশি’ এগুলা হচ্ছে ঢাকা শহরের নামকরা বাস সার্ভিস। এদের দেখা আপনি ঘন্টায় একবার করে পাবেন… তারপর আবার হাওয়া !!! এক্ষেত্রে ‘দিবানিশি’ কে নামকরণের সার্থকতা রক্ষার জন্য পুরস্কার দেওয়া উচিত। এদের বাস ‘দিবা’ তে যায় আবার ‘নিশি’ তে আসে। যদিও দিবানিশি আগে বসুন্ধারা সিটি হয়ে যেত বনশ্রীতে, তবে এখন আর তা যায় না। তো যাইহোক যেটা বলছিলাম আরকি, রুট ২ দিয়ে যদি আমি বাসায় পৌঁছাতে চাই, তাহলে এক হয় আমাকে উইনার এ চেপে যেতে হবে (যা আশা করা বোকামি হবে) আর না হয় এই রুটেও ভেঙ্গে ভেঙ্গে আমাকে লিঙ্ক রোড যেতে হবে।


……………………………………………………………
https://maps.google.com/maps/ms?msid=210382209628673030379.0004dadc1314eecc723e8&msa=0&ll=23.769557,90.409584&spn=0.052471,0.084543

রুট ২: বিএফডিসি-হাতিরঝিল-মেরুল
মোট পথঃ ৫.৭৭ কি.মি

এই রুটের নাম হচ্ছে হাতিরঝিল রুট। সিএনজি কে ডাক দিবো, দরকষাকষি করে ৮০-১০০ টাকার মধ্যে রাজি করাবো… আর তারপর ১০ মিনিটের মধ্যে বাসায়!! আপাত দৃষ্টিতে এই রুট টাকে বেষ্ট মনে হলেও, আমার বর্তমান ফকিরাবস্থার জন্য এই রূট অনেকাংশে দায়ী। গত ৩০ দিনে ৪০ বারের মতো সিনজিতে আসা যাওয়া করে আমি এখন নিঃস্ব !!

রুট ১: বিএফডিসি-কাওরানবাজার রেললাইন-মগবাজার রেললাইন-মালিবাগ রেললাইন-রামপুরা-মেরুল
মোট পথঃ ৫.১৯কি.মি

এই রুট আমি আবিষ্কার করছি গতকাল, রাস্তার ডিরেকশন মাথায় অবশ্য ঢুকিয়ে দিয়েছিল ‘অর্পন’ দাদা। অর্পন দাদা আবার উত্তরা মটরস এর ইস্কাটন ব্রাঞ্চে আছে। সে অবশ্য বলেছিল সন্ধ্যার আগে এই রূট ব্যবহার করতে, আর না হয় ছিনতাইকারীর হাতে পরে পেটের সেলাই কাটানোর আগেই আরেকবার সেলাই করাইতে হবে… আমি এই পর্যন্ত ছিনতাইকারীর হাতে পরে নাই, তাই ছিনতাইকারীর হাতে পরা আমার জন্য কিছুটা হলেও থ্রিলারজনিত ব্যাপার। সে আশা নিয়েই হোক, আর ৬ নাম্বার বাসের অপেক্ষাতে বিরক্ত হয়েই হোক আমি শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা ২০ মিনিটে কাওরানবাজার রেললাইন ধরে সোজা হাটা ধরেছিলাম। ছিন্তাইকারীর ভয় তো দূরের কথা, এক মূহুর্তের জন্যেও একা মনে হয়নি নিজেকে। আমার মতোই অনেক মানুষ রেললাইন ধরেই হেটে হেটে যাচ্ছিল। আর রেল লাইনের দুপাশেও অসংখ্য মানুষ বিচ্ছিন্নভাবে জড় হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিল।

রেললাইন ধরে হাটার সময় একটা জিনিস খুব ভালোভাবে অনুভব করলাম। আর তা হচ্ছে আমি যখন রেললাইনের এক একটা পাটাতন ধরে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, আমার ভিতরে একটা মোহ কাজ করছিল। একটা নেশা নেশা লাগছিল… মোহচ্ছন্নভাবটা আরো জেঁকে বসেছিল রেললাইনের আশপাশের পরিবেশ দেখে। কাওরানবাজার রেল লাইন ধরে যখন আপনি হেটে যাবেন তখন দেখবেন, ডান পাশে সারি বেধে ছোকড়া থেকে শুরু করে থুড়থুড়ে বৃদ্ধ পর্যন্ত ক্যারাম খেলছে। একটা দুইটা বোর্ড না বরং সারি বেধে রাখা ক্যারাম বোর্ড রয়েছে সেখানে। কিছু কিছু জায়গায় দেখলাম আবার টিনশেডের ছাউনি তোলা ঘরের মতোন জায়গায় খেলছে সবাই। মনোযগ দিয়ে খেলার পাশাপাশি মনোযোগ সহকারে যে তারা আর একটা জিনিস খুব ভালোভাবে করছিল তা আমি খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলাম, আর তা হচ্ছে ‘গঞ্জিকা’ সেবন।
আবার যখন মগবাজার রেলগেইট পাড় হলাম তখন আবার দেখলাম রেললাইনের পাড় ঘেঁষেই ছোট ছোট অনেক বাসা। ভদ্রলোকের ভাষায় বললে বলতে হবে ‘বস্তি’। এই বাসাগুলোর মধ্যে একটা বাসা খুব ভালোভাবে আমার মাথায় গেঁথে গিয়েছিল। অবশ্য বাসা বললে ভুল বলা হবে, বলতে হবে বাসার সামনে বসানো চুলাটার কথা। যে মাটির চুলার পাশে বসে একজন নারীকে দেখেছিলাম রান্না করতে। পাশ ঘেঁষে যখন হেটে যাচ্ছিলাম তখন ইচ্ছে করছিল খুব তাকে জিজ্ঞাসা করি তার প্রিয় মানুষটির জন্য কি রান্না করছে আজ রাতের খাবার। তার কাছের মানুষটি হয়তো এখনো বাসায় ফিরেনি, অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে তার জন্য… রেলগাড়ি আসে… রেলগাড়ি যায়… তবুও হয়তোবা তার প্রিয়জন আসে না…

রবিবারঃ


গতকাল অফিসে সারাদিন ছিলাম বলতে গেলে একাই, আমরা ৪ জন কলিগের মধ্যে মাত্র ২ জন ছিলাম। বাকি দুই জনের ভার্সিটিতে ফাইনাল এক্সাম চলছে। সারাদিন ধরেই একা ছিলাম। উল্ল্যেখযোগ্য কিছুই হয়নি সেদিন… আপলোড করেছিলাম বেশ কিছু ফিল্ম আর ই-বুক… লিঙ্ক পেতে চান ? আচ্ছা দিচ্ছি…

১। Anisul haque

২। Buddha dev ghuho

৩। Drubo Esh

৪। educational

৫। Humayun Ahmed

৬। Humayun Ajad

৭। Jafor Iqbal

৮। Rabindranath Tagor

৯। Rafiqun Nabi

১০। Recipi’s Book

১১। Sathayjit Roy

১২। Shirshendu

১৩। suchitra b

১৪। Sukumar Roy

১৫। Sumonto Aslam

১৬। Sunil Gangopadhyay

১৭। Taslima Nasreen

১৮। western onubad

মুভিঃ

  1. 9 (Animation) Blurey Rip
  2. Cars (2006-Animation) Blurey Rip
  3. Dragon Hunters (Animation)
  4. Hotel Transylvania (2012) (Animation)
  5. Life of Pi Blyrey Rip
  6. Rio (blurey- Dual Audio)
  7. Sherlock Holmes (2009) (Blurey Rip)
  8. Sherlock Holmes- A Game of Shadows (BluRey Rip)
  9. Shrek 2001 (Blurey Rip)
  10. The Dark Knight Rises (2012) (BluReY Rip)

মভিগুলো ফাইল স্লিটার দিয়ে ভাগ করে আপলোড করা হয়েছে। তাই জোড়া লাগিয়ে দেখতে হলে নিচের লিঙ্ক থেকে ১ এমবির ফাইল স্প্লিটার সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিতে হবে। লিঙ্কঃ http://www.mediafire.com/download.php?851w71hpl3xp0gg

সোমবারঃ

গতকাল একটা ছাতা কিনেছি মোস্তফা মার্কেট থেকে, ৫২০ টাকা রেখেছে। মোস্তফা মার্কেট টা চিনেছেন তো ? ওইযে বসুন্ধারা সিটির গ্রাউন্ড ফ্লোরের ২ টা নিয়ে যেই বিশাল বড় সুপার শপটা। খুব ভালো একটা দোকান, আবার দামও অতোনা। তন্দ্রার জন্য গত বছর একটা ছাতা কিনেছিলাম নিউমার্কেট থেকে। দাম রেখেছিল ৪৫০ টাকা। ওই ছাতাই মোস্তফাতে দেখলাম ৪৮৫ টাকা লেখা। আমি অবশ্য ওইরকম ছাতা কিনি নাই, আমি যেরকম কিনেছি তাকে আপনি বৃদ্ধ মানুষের ছাতা চাইলেও বলতে পারেন। আমার ছাতাটা ভাঁজ করা যায় না, আবার ছাতার আন্টা টাও বেকানো। মোট কথা হচ্ছে এটাকে আপনি ছাতা হিসেবেই ডাক দিতে পারবেন। যাইহোক ছাতা শব্দটার ইংরেজি তো নিশ্চয়ই জানেন ? তারপরও বলছি ছাতা শব্দটার ইংরেজি হচ্ছে Umbrella যা ল্যাটিন শব্দ Umbra থেকে এসেছে। আর Umbra এর অর্থ হচ্ছে ছায়া। আর ল্যাটিন এই Umbra শব্দটা এসেছে প্রাচীন গ্রীক শব্দ ómbros (όμβρος) থেকে। “umbel” মানে হচ্ছে চ্যাপ্টা মাথার গোল ফুল। আবার অন্যদিকে “umbra” মানে হচ্ছে ছায়া। “Parasol” শব্দটাও হচ্ছে Umbrella এর একটা সমার্থক ইংরেজি শব্দ। যার “para” এর অর্থ হচ্ছে ‘বন্ধ করা’ অথবা রক্ষা করা, আর “sol” এর অর্থ হচ্ছে ‘সূর্য’। একসাথে করলে অনেকটা এরকম দাঁড়ায়, “সূর্য থেকে রক্ষা করা”। বৃটেনে ছাতাকে “gamps” ও বলা হয়ে থাকে। “gamps” কথাটি আসছে চার্লস ডিকেন্সের Martin Chuzzlewit উপন্যাস এর Mrs. Gamp’s চরিত্র থেকে, যে ওই উপন্যাসে সবসময়ই একটা ছাতা সাথে রাখতো, যেখানেই সে যেত না কেন।
আমিও ভাবছি এখন থেকে সব সময়ই আমার সাথে নতুন কেনা ছাতাটা রাখবো… যেখানেই যাই না কেন…

সোমবার রাত ৯ ঘটিকার কিছু সময় পর আমি আমার জীবণের একটা মূল্যবান অংশ হারিয়েছি। যা হারিয়েছি তা হচ্ছে আমার ৩২ জিবি মাইক্রো এসডি মেমরি কার্ড। আমার কার্ডে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফাইল ছিল, যেগুলো কষ্ট করে দিনের পর দিন মোবাইলের ছোট স্ক্রীনে একটু একটু করে লিখেছিলাম…এমনকি আমি হয়তো কোনোদিনও মনেও করতে পারবো না আমি কি নিয়ে লিখেছিলাম। সে সব ফাইল হয়তো আর কোনো দিনও আমি খুঁজে পাবো না। অবশ্য ৩২ জিবির মধ্যে পরোটাই গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে ঠাসা ছিল না। বরং যা দিয়ে ঠাসা ছিল, তা হারিয়ে বরং আমার স্বাস্থ্যের জন্য লাভই হয়েছে। Lisa Ann, Julia Ann, Shyla Stylez, Joen Deen, Rocco Shefardi, Phonix Maria, আরো অনেকেই হয়তো আমাকে প্রচন্ডভাবে মিস করবে… তাদের জন্যও কিছুটা খারাপ লাগছে…

মঙ্গলবারঃ

আজ মঙ্গলবার, এখন পর্যন্ত তেমন কিছুই করছি না, বা উল্ল্যেখ্যযোগ্য তেমন কিছুই হয় নাই আমার সাথে। বাসায় গিয়েছিলাম ও গতানুগতিক অন্যান্য দিনের মতো ৩.৫ কিলো এর মতো পথ রেল লাইন ধরে হেটে হেটে। তবে কালকে সব থেকে যাকে বেশী মিস করেছি, সে হচ্ছে আমার গুরু এমিনেম কে। কারণ সোমবারে নষ্ট হয়ে যাওয়া মেমরি কার্ড এর কারণে আমার কানে আজ বাজেনি এমিনেমের ঝাঙ্কার… 
কাওরানবাজার রেললাইন ধরে মগবাজার রেললাইন হয়ে মালিবাগ রেল লাইন পার হয়ে আবুল হোটেলের সামনে আসার পর একজনের সাথে আমার দেখা হলো। ঠিক ‘দেখা হলো’ বললে ভুল বলা হবে, আমাকে সে জড়ানো গলায় ‘এক্সিউজমি’ বলে থামালো। মেয়ে না… পুরুষ মানুষ, আর দেহের অঙ্গভঙ্গিও যেন কেমন কেমন। আমাকে থামিয়ে বলল,
“আক্ষা ভায়া এই লহ রেড টা কোন দিকে বলতে পারেন ?”।
আমি তার কথা পরিষ্কার ভাবে বুঝতে না পারলেও ধারণা করলাম সে বলতে চাচ্ছে লিঙ্ক রোডটা কোন দিকে। আমি বললাম…
-লিঙ্ক রোড ?
-হ্যা…লি… র‍্যোড…
-এই রাস্তা ধরেই সোজা গেলে লিঙ্ক রোড পাবেন, মধ্য বাড্ডার পরপরই।
-আপনি কি এখানে থাকেন ভায়া ?
– না, আমি লিঙ্ক রোডের ও খানেই থাকি।
– আচ্ছা ভায়া, আমি বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী স্কুলে পডি, আমার না খুব ক্ষুধা লেগেছে। আমাকে কি দশটা টাকা দেওয়া যাবে ?
– ভাই আমার কাছে টাকা নাই দেইক্ষাই আমি হাইটা হাইটা বাড্ডায় যাচ্ছি…
-টাকা তাহলে নেই… না ?
আমি তার উত্তর দেওয়ার আগেই দেখলাম সে আমাকে ফেলে আমার পিছনের পথযাত্রিকে ধরেছে, আর লক্ষ্য করলাম তার বাম হাতের মুঠোও কিছু টাকা ভাঁজ করে রাখা। আমার কাছে কেন জানি মনে হলো লোকটা ফ্রড, বেশী টাকা পাওয়ার আশায় ইচ্ছে করেই ভান ধরে আছে প্রতিবিন্ধীর। যদি সে সত্যিই প্রতিবন্ধী হতো, তাহলে সে দেখা হওয়া মাত্রই টাকা চেয়ে বসতো, ‘লি’ রোড কোথায় বলে প্রতিবন্ধী সাজার চেষ্টা করতো না। যাইহোক তার এপ্রোচটা আমার ভালো লেগেছে… ভাবছি একদিন আমিও এরকম ভান ধরে সারাদিন কামাই করার চেষ্টা করবো, তারপর কিছু টাকা নিজের অভিনয় ভাতা হিসেবে নিজের পকেটে রেখে বাকিটা কোন এক প্রতিবন্ধীকে দিয়ে দিবো।
যাইহোক তারপর একসময় বাসায় আসলাম…
আর বাসায় এসে তো আমি অবাক !!! টিনের চালে কাক, আমিতো অবাক !!!
বাসায় এরা কারা বসে আছে !! আমার জিগরী দোস্ত ‘বাপ্পা’, ‘রিজভী’ আর ‘অর্পণ দাদা’ !! কতদিন পর আমরা একসাথে একই রুমে হলাম… শেষ যেদিন হয়েছিলাম সেদিন একটা খুব খারাপ কাজ করেছিলাম আমি। অবশ্য সেদিন আমার মাথা ঠিক ছিল না, খুব বেশীই হয়েগেছিল সেদিন… অবশ্য দোষ আমার না… দোষ ছিলো অন্য জিনিসের…বাপ্পার ভাষায় সেগুলো ছিলো নাকি দিনাজপুরের ‘অরিজিনাল জিনিস’ !! যাইহোক সেদিনের ঘটনা নিয়ে আজও দাদা আর রিজভী আমাকে ক্ষেপানোর চেষ্টা করে। আমি মনে মনে অনেক ক্ষেপীও, ইচ্ছে করে ধইরা দুইডারে আছাড় মারি তখন, কিন্তু মুখে এক চিলতে হাসি ঝুলিয়ে রেখে ভাব ধরি, ‘আরে ধুরো, এডি কেডা কেয়ার করে’ !!!
তাঁদেরকে যেই গতিতে দেখেছিলাম… সেই গতিতেই তারা চলে গিয়েছিল রাতের ১০ টার দিকে। তারা যাওয়ার পর বসে বসে পেপার পড়ছিলাম… সোমবারের বাসী পত্রিকা (আমি আবার গত বছরের ডিসেম্বর থেকে পেপার পড়ার অভ্যাস ত্যাগ করেছি। আগে দিনের পেপার ২ ঘন্টা লাগিয়ে মুখস্থ করতাম। এখন এক মাসেও পেপার ধরে দেখি না)। তো হঠাৎ করেই ৯ নং পাতার একটা নিউজ দেখে কিছুটা হতচকিত হয়ে উঠলাম। কাওরানবাজার রেল লাইনে এক ঘন্টার ব্যবধানে দুইজন কাটা পড়েছে। আমি পড়ছিলাম সোমবারের পত্রিকা, তারমানে ঘটনা রবিবারের। এতো কাহিনী করে কি বারে কাটা পরেছে তা না বললেও পারতাম, কারণ সময় এবং বার পেপারেই দেওয়া আছে। তারপরও একটু কাহিনী করছি। কারণ ‘কাওরানবাজার বাজারসংলগ্ন রেললাইন’ পড়েই আমাকে বাকিটুকু না পড়েই হিসেব করতে হয়ছিল দিনটি কি বার ছিলো সেদিন। আমি শনিবার থেকেই শুরু করেছিলাম হেটে হেটে বাসায় আসার যাত্রা। শনিবার সন্ধ্যায় যেদিন হাটা ধরেছিলাম সেদিনও হয়তো মানুষ দুটি বেঁচে ছিলো, সন্ধ্যার আব-ছায়া অন্ধকারে হয়তো নিজের ছোট ছেলেটাকে নিয়ে বের হয়েছিল ঘুড়তে নিয়ে যাওয়ার জন্য… সন্ধ্যা মেলাবার পর পরই হয়তো সেই ছেলেটা তার বাবাকে ভয়ে ভয়ে আবদার করেছিল কিছু একটার…
আমি রবিবার সন্ধ্যায় যখন হাটছিলাম রেল লাইনের পাটাতন দিয়ে, আমার পায়ে হয়তো লেগে গিয়েছিল সেই দুইজনের কাটা মাংসের কিছুটা… আমি হয়তো বুঝতে পারিনি… মনটা নিজের অজান্তেই খারাপ হয়ে গিয়েছিল…

বুধবারঃ


বুধবার অফিসে আসার পর থেকেই ব্যাস্ত হয়ে গিয়েছিলাম আমার আগের ল্যাপটপ থেকে ফাইলগুলো সরানোর কাজে। আমার ৩২ জিবি মেমরি কার্ডতো আগেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই মেমরি কার্ডেও ট্রান্সফার করতে পারছিলাম না। ঠিক এ সময়েই শুনেছিলাম সাভারের বিলন্ডিং ধ্বসের কথা। সত্যি করেই বলবো, আমার ভিতরে তখন কোনো আবেগেই কাজ করেনি (পরেও অবশ্য ততোটা করেনি, যতটানা অন্যদেরকে হতে দেখেছি)। আমি আসলে ছোটবেলার থেকেই স্বার্থপর। অবশ্য এইক্ষেত্রে স্বার্থপর বলাটা খাটে না, বরং যেটা খাটে সেটা হচ্ছে ‘নিষ্ঠুর’। আমি প্রচন্ড ‘নিষ্ঠুর’ প্রকৃতির একজন খারাপ মানুষ। অনেকে অবশ্য ভাব ধরে নিজেকে খারাপ বলতে পছন্দ করে, আমি আবার ঐ দলের না। আমি সত্যিই খারাপ, যদি কিনা আপনি ইমোশন ছাড়া একজন মানুষকে খারাপ বলতে চান। তবে, আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন ‘আমি নিজেকে কি মনে করি ?’ আমি বলবো, ‘আমি নিজেকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে ভাবতে পছন্দ করি’। আমি নিজের ভিতরে ইমোশন আনার জন্য এই পর্যন্ত অনেক অনেক বার চেষ্টা করেছি। আমি কিভাবে ইমোশন আনার চেষ্টা করেছি তা যদি আপনাকে বলি, তাহলে আপনি কিছুটা বুঝতে পারবেন। অনেকেই হয়তো আবেগ আনে একটা চিরচারিত উপায়ে, আর তা হচ্ছে নিজের প্রিয় কারো মৃত্যু নিয়ে কল্পনা করা। তারপর যা চিন্তা করি, তা হচ্ছে মৃত্যুর পর আমরা কি করবো, আমরা কিভাবে থাকবো, কার সাথে কথা বলবো, ইত্যাদি ইত্যাদি…
আমি কিন্তু এভাবে এখন আর আবেগ আনার চেষ্টা করি না, বা চেষ্টা করলেও আবেগ কাজ করে না। অনেকটা একই জিনিস বার বার করতে করতে অভস্ত্য হয়ে যাওয়ার মতো। নেশাখোড়দেরকে নিয়ে বুঝালে সহজে বুঝতে পারবেন। প্রথম প্রথম যখন মানুষ নেশা করে, তখন তার সিগারেটে একটা টান দিলেই জগত উল্টা পাল্টা হয়ে যায়। মাথা ঘুড়ায়, বমি বমি লাগে, তারপরও সিগারেটের একটা টানকে অপূর্ব বলে মনে হয়। তারপর আস্তে আস্তে যখন সে সিগারেটে অবস্থ হয়ে যায় তখন আর তার কাছে তা ভালো লাগে না। তখন দৌড়াতে দৌড়াতে সিগারেট খেলেও তার আর মাথা ঘুড়ায় না। তাকে তখন তৃপ্তি লাভ করার জন্য উঠতে হয় উপরের লেভেলে, খেতে হয় ‘গাঞ্জা’, পেতে হয় হয় সুখ, আর বুঝার চেষ্টা করতে হয় জীবনের দুখ। ‘গাঞ্জা’ প্রথম প্রথম সে যখন খায়, তখন দুই টান দেওয়ার পর তার আশ পাশের সব জগত তখন ঘুড়তে থাকে, হার্টবিট এর প্রতিটা বিট তখন বুঝতে পারে সে, সময় তখন আর যায় না… ওহ কি সুখ… !!! আস্তে আস্তে ওই সুখে তখন সে অভ্যস্ত হয়ে যায়। তখন তাকে ধরতে হয় হিরোইন। আর হিরোইন প্রথম প্রথম যখন সে খায় তখন তাকে খেতে হয় ফয়েল পেপারে পুড়িয়ে। একটান দেওয়ার আগেই চিৎ হয়ে পরে থাকতে হয়। তখন ঐ চিৎ হয়ে পরে থাকাতেই সুখ। এরপর আস্তে আস্তে ফয়েল পেপারের পোড়ানো হিরোইনের ধোয়াতেও যখন নেশা তেমন কাজ করে না, তখন তাকে টান দিতে হয় ফয়েল পেপারে পোড়ানো ছাড়াই হিরোইন।
আমারও এখন আর অন্যের মৃত্যুর কথা চিন্তা করে আবেগ আসে না। চিন্তা করতে হয় আমার মৃত্যুর কথা, ভাবতে হয় কি করবে আমার কাছের মানুষগুলো যখন তাঁরা জানতে পারবে আমার মৃত্যুর কথা, ধরতে পারবে আমার শীতল শরীরটা… মানুষের মৃত্যুর সময় যে ইন্দ্রিয়টি নাকি সবার শেষে অকার্যকর হয়, সেটা হচ্ছে ‘শ্রবণেন্দ্রিয়’। আমার মৃত্যুর পরও হয়তো আমার ‘শ্রবণেন্দ্রিয়’ এর কারণে আমি আমার আশপাশের মানুষের কান্নার আওয়াজ শুনতে পারবো। বুঝতে পারবো, কারা আমাকে সত্যিই ভালোবেসেছিল মনের একেবারে ভিতর থেকে…
আমি প্রায়শই আমার মৃত্যুর কথা চিন্তা করে কান্নাকাটি করি, কিন্তু অন্যের মৃত্যুর সংবাদে কেন জানি মনটাতে খুব একটা ঝড় উঠে না। বুধবারে যখন শুনেছিলাম সাভারের দালান ধ্বসের কথা, তখন আমি আমার অফিসে বসে ফাইল ট্রাস্ফার করছিলাম আর এক কলিগের পিসিতে। একটিবারের জন্য নেটে যেয়ে দেখিনি, কি হয়েছে আর কি হয়নি… আমি আসলেই অনেক নিষ্ঠুর…

বৃহঃপ্রতিবারঃ


সেদিন রাতে আমার পকটে ৫০টাকার একটা নোট আর একটা ১০ টাকার নোট ছিল। মালিবাগে আসতে আসতে তা এসে পড়ে শূন্যের কোঠায়। বাকিটা পথ এখন যেতে হবে শূন্য হাতে। সেদিন আবার আমি ইচ্ছে করেই মোবাইলটা নেই নি। আর যেহেতু নেইনি, তাই কানেও এমিনেম বাজছিল না। আর যেহেতু কানে এমিনেম বাজছিল না তাই হাটতে হাটতে আশপাশের শব্দগুলোকে অন্যরকম লাগছিল। এক অদ্ভুত মুগ্ধতা কাজ করছিল আমার ভিতরে। জীবণটাকে আমার কখনোই খারাপ মনে হয়নি, আর সেদিন মনে হচ্ছিল জীবনটা অসাধারণ। যার থেকে কখনোই বিচ্যুত হলে আমার চলবে না।
রাতের বেলা রেললাইন ধরে যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম তখন ধরতে পারলাম রেললাইন ধরে হাটার সময় নেশা কাজ করে কেনো। রেললাইনের পাটাতনের উপর দিয়ে হাটার সময় আপনাকে সব সময় লক্ষ্য রাখতের হয় প্রতিটা পাটাতনের উপর, তা না হলে যে কোনো সময় আপনি পা ফসকে পরে যেতে পারেন। তাই চোখ রাখতে হবে পাটাতনের উপর আর প্রতিটা পাটাতনের উপর চোখ রেখে যখন আপনি সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন তখন প্রতিটা পাটাতনের নির্দিষ্ট দূরত্বের কারণে আপনার চোখে একপ্রকার ভ্রম তৌরি হবে। আর যেকোন ভ্রমই চোখকে এক প্রকার প্রশান্তি দিয়ে থাকে, যার কারণে নেশা নেশা লাগে। আমারও সেদিন প্রচন্ড নেশা নেশা লাগছিল.. যার তুলনা হয়তো কোনো কিছুর সাথে চলেনা। তুলনা চলেনা যখন দেখি রেললাইনের পাশ ঘেঁষে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে দুইভাইবোন, বা ঐ দুটি শিশুর দৌড়, যারা ট্রেন অনেকদূর চলে যাওয়ার পরও দৌড় দিয়েই যাচ্ছিল ট্রনটাকে একটিবার ধরবে বলে… তুলনা চলে না যখন শুনি রেললাইনের বস্তিতে থাকা মানুষগুলো চায়ের দোকানের টিভিতে ভিড় জমিয়ে আর একজন চাপা পরা মানুষের উদ্ধারের খবর শুনে চিৎকার করে করে উল্লাস প্রকাশ করছে… তুলনা চলে না, যখন বুঝতে পারি এদেশের মানুষকে কখনোই কোনো শক্তি বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। আর তুলনা চলেনা… যখন অনুভব করতে পারি আমি শুধু একা হাটছি না… আমার সাথে সাথেই হাটছে আমার পরিচিত একজন কাছের মানুষ, যার মুখটা দিন কে দিন আমার কাছে ঝাপসা হয়ে আসছে… আর ঠিক তখনই আমার চোখ বেয়ে একফোটা, দুফোটা করে জল ঘড়িয়ে পরে রেলেলাইনের উপর… যার প্রতিটা পাটাতন ঘড়া হয়েছিল আমার জন্য… একজন ত্রিভকালের জন্য…

আপনি কি জানেন আপনার জন্মের সময় আপনি কত তম মানুষ ছিলেন ?

জটিল একটা জিনিসের সন্ধান পাইলুম মাত্র… আপনি যদি জানতে চান আপনার জন্মের সময় আপনি কত তম মানুষ ছিলেন আর কতজন তখন জীবিত ছিল… তাহলে নিচের লিঙ্ক থেকে ঘুরে আসতে পারেন।।

http://www.bbc.co.uk/news/world-15391515

আমি ছিলাম 5,295,414,363 তম মানূষ !!!

এখন আমাকে বলেন আপনি কত তম ?

খোলা চিঠি ; প্রাপক আমার হইলেও হতে পারত শালা বাবু ‘রাজু বকসী’

প্রিয়তমেষু রাজু ওরফে রাজা,
বদনারও যে নাম থাকে তা আগে কখনো লক্ষ্য করি নাই। আজকে করলাম। বোনের বাসায় দুইটা বাথরুম আছে। একটায় বদনা আছে, আরেকটায় নাই। যেটায় আছে ঐটার বদনার নাম হইলো গিয়া ‘রাজা ‘!! বিশ্বাস হচ্ছে না? না হউয়ারই কথা। ‘সাগর ‘ নামে কোন বদনা থাকলে সেটা আমার কাছে অবিশ্বাস্যই ঠেকাবে। যাই হোক আমি তোমাকে ঐ ভাঙ্গা বদনার ছবি তুলে পাঠাবো। হয়তোবা এতে তোমার কিছু যায় আসবে না, কিন্তু আমার আসবে। আমি অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় নিয়েও মাথা ঘামাই, অযথাই। একটা সময় ছিল যখন একটা মেয়ের পা দিয়ে মাড়িয়ে যাওয়া ধুলোও সংরক্ষণ করার জন্য মন আঁকুপাঁকু করতো। ওই সময়ের ওই দিনগুলোতে ওই মেয়েটির থেকে পাওয়া বা কুড়িয়ে নেওয়া কিছু জিনিসের ফিরিস্তি দিলে তুমি হয়তোবা কিছুটা আচঁ করতে পারবা। আমার একটা বাক্স আছে, ঐটাতে আমি ঐ মেয়েটার থেকে পাওয়া (বিশেষ করে ব্যাবহার করে ফেলে দেওয়ার মতো জিনিসপত্র) জিনিসপত্র রাখি। বিভিন্ন বদনার মতো আমার অই বাক্সটারও একটা নাম আছে, ‘তন্দ্রা বিলাস ‘। ঐ বাক্সটায় ভাঙ্গা চুলের ক্লিপ থেকে শুরু করে হাতের নখ পর্যন্ত আছে। ঐ মেয়েটার খেয়ে বেচেঁ যাওয়া পপকর্ণ সুন্দর করে প্যাকেট করা আছে। গত চারবছরে পপকর্ণ গুলো একেবারে চিপসে কালচে দাগ পরে গেছে। একটা টুরিস্ট চকলেটের খালি প্যাকেট টিস্যু দিয়ে পেচিয়ে রাখা আছে। একবার সে আমাকে পেভিসন ঔষুধ কিনে দিয়েছিল। সেটা আমি ব্যাবহার না করে রেখে দিয়েছিলাম বাক্সটিতে। আমার ওয়ারিদ নাম্বারটা ও কিনে দিয়েছিল, অই প্যাকেটাও আছে ওখানে। একটা আংটির ছোট বাক্স আছে ওখানে। ওটাতে আংটি না থাকলেও একটা ভাঙ্গা মাথার ক্লিপ, একটা ক্লোরমিন্টের খালি প্যাকেট, একটা দলা মোচড় হয়ে যাওয়া টিস্যু, একটা চুল, আর একটা আধ খাওয়া সিগেরেটের টুকরো আছে। সিগেরেট টা সে আমার জন্মদিন উপলক্ষে খেয়েছিল। একটা প্যাকেটে ২৩ টা স্ট্র রাখা আছে যা দিয়ে সে একসময় কোল্ডড্রিংস্ক খেয়েছিল। একদিনে না অনেক দিন লাগিয়ে খেয়ে থাকা স্ট্র…আর আছে অনেক কাগজে বানানো নৌকা, বাক্স আর রং বেরঙ্গের প্লেন…আরো অনেক কিছুই আছে যা তোমাদের ভাষায় হয়তো অর্থহীন ছাগলামি, কিন্তু কারো কারো কাছে ওগুলোর আলাদা একটা অর্থ আছে। যে অর্থ হয়তো একটা টোকাইকে ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে পাওয়া মানুষের পরিত্যক্ত জিনিস খুজে পাওয়ার আনন্দ দিয়ে থাকে। যে আনন্দের সিকি ভাগও হয়তোবা তোমরা কখনো বুঝতে পারবা না।

৫ বছর আগে যখন তোমাদের আর আমাদের পরিবারের সফল প্রচেষ্টায় আমার আর তন্দ্রার মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করানো হয় তখন জীবনে প্রথমবারের মতো আমি একটা বড় সর ধাক্কা খেয়েছিলাম। রাতে একা একা কথা বলতাম, হাসতাম, কাদঁতাম… একসময় ঘুমিয়ে পরতাম… মাকে তখন খুব ভয় পেতাম তাই জোড়ে কান্না করতে পারতাম না।বালিসে মুখ গুজে নিশ্বাস বন্ধ করে নিঃশব্দে কান্না করার ক্ষুদ্র অপচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলাম অনেকদিন ধরে… আমার বাক্সটার নিচের দিকে একটা ফাইল আছে। ফাইলে আমি তন্দ্রার মতো দেখতে মানুষের ছবির পেপার কাটিং রাখতাম। ওখানে ছেলেদেরও কিছু ছবি আছে। একদিন পেপারে দেখলাম একটা মেয়ের ছবি দিয়েছে। দুই বোনের ছবি। বড় বোন বসে আছে হাস্যজ্জ্বল মুখে , আর তার পাশে ছোট বোন দাড়িয়ে আছে। বড় বোনকে দেখে আমার চোখ পেপারে আটকিয়ে গেয়েছিল। পাশের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘মিথিলা বাচতে চায় ‘। পেপারটা সযত্নে রেখে দিয়েছিলাম আমার ড্রয়ারে। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পরলে ড্রয়ার থেকে বের করে বালিশের তলায় গুঁজে রাখতাম। রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে তা বের করে মোবাইলের হলুদ আলোতে ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকতাম। একসময় লেখা গুলো ঝাপসা হয়ে আসতো। ঝাপসা লেখা গুলোকে মনে হতো ‘তন্দ্রা বাঁচতে চায় ‘ আর মনে হতো ক্যান্সারটা ঠিক মিথিলার নয় ক্যান্সারটা হয়েছে তন্দ্রার…

পেপারে মেয়েটার বাবার নাম্বার দেওয়া ছিল। আমি প্রায়শই ফোন করে জিজ্ঞাসা করতাম মিথিলার কি খবর? উনি কখনো বলতেন ভালো, আর কখনো ক্লান্ত স্বরেই বলতেন ভালো। আমি কখনোই উনাকে সাহায্য করতে পারিনি, উল্টো মাঝে মাঝে ফোন করে বিরক্তই করতাম বলে মনে হয়। কিন্তু আমি একটা অসম্ভব টান অনুভব করতাম। তাই যেদিন থেকে শুনলাম অবস্থা অবনতির দিকে, আমি ফোন করা বন্ধ করে দিয়েছিলাম।কারণ আমি বিশ্বাস করি সে আজও বেচেঁ আছে। আমি বিশ্বাস করি, ভগবান তার সবকিছু কেড়ে নিলেও তার হাসিটুকু কেড়ে নিতে পারেনি। সেই ক্ষমতা ভগবানের নেই বলেই আমার বিশ্বাস। আমি আজও যখন তার হাস্যজ্জ্বল ছবিটির দিকে তাকিয়ে থাকি আমার ভগবানের প্রতি ঘৃণা জন্মায়। আমার ঘৃণা জন্মায় ধর্মের প্রতি। আর আমার ঘৃণা জন্মায় নিজের প্রতি।

আমি তন্দ্রাকে কিছুই দিতে পারিনি, শুধু একদিন রাস্তায় সকলের সামনে একটা থাপ্পড় ছাড়া। সে আমাকে তবু ছেড়ে যায়নি তখন, ধরে রেখে ছিল বাচ্চাদের মতো। আমার কাছ থেকে একটা চিঠি পাবার আশায় প্রতি রাতে বায়না ধরতো। তবুও আমি লিখবো লিখবো করে মাস কাটিয়ে দিতাম। তার পাঠানো বেশিরভাগ চিঠির একটা অংশের লেখা অস্পষ্ট থাকতো। কলমের কালি ছাপিয়ে বুঝতে পারতাম সেগুলো ছিল তার কান্না মিশ্রিত লেখা। আমি তবুও লিখতাম না … কারণ আমি জানতাম বাচ্চাদের সব আবদার মিটাতে নেই বা জানতাম সে আমাকে ছেড়ে কখনোই যেতে পারবে না। আজ হয়তোবা সে আর বাচ্চা নেই, তার বয়স হয়েছে ২৪ আর আমার ২২। ৬ বছর পর এসে মনে হচ্ছে সে আসলেই আমার থেকে ২ বছরের বড় ছিল, যে বিষয়টা কখনোই আমার মাথায় কাজ করতো না।আমি তাকে প্রায়শই বলতাম, “বিয়ার পর তোরে আমি মুসলমান বানায়া নাম দিমু হাজেরা খাতুন, বা জরিনা বেগম। ” সে কিছু না বলে ফিক করে হেসে দিত। অই ভেবলা মার্কা হাসির শব্দ হয়তোবা আমি আর কখনোই শুনতে পারবো না। পারবো না কারণ তা শুনতে গেলে হয়তোবা তোমাদের জাত চলে যাবে। সমাজের লোকেরা ছি ছি করবে। তোমার ছোট বোনের আর হয়তোবা বিয়ে হবে না। তোমার বাবার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার হয়তো ধুলোয় মিশে যাবে। তার বদলে একজন সাব্বির আহমেদ বা তন্দ্রা বকসীর ফকিরা ভালোবাসা -বাসির কোরবানি দেওয়াই উওম। যা হয়তো তন্দ্রা বকসী মুখ বুজে মেনে নিলেও আমি হয়তোবা মেনে নিব না।

আমি হলাম হোমিওপ্যাথিক ওষুধের মতো। হোমিওপ্যাথি ঔষুধ যে এলাপ্যাথিক ঔষুধের বিপরীত নীতিতে কাজ করে তা কি জানা আছে তোমার? ধরো একটা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ ভেঙ্গে যদি আমরা অর্ধেকটা খাই তাহলে তার কার্যকারীতা আমরা অর্ধেকই পাবো, কিন্তু হোমিওপ্যাথিতে তা হচ্ছে উল্টো। হোমিওপ্যাথিতে ঔষুধ যত বেশীবার তরলীকরণ করা হবে, ওই ডোজের পাওয়ার ততো বেশী হবে। হোমিওপ্যাথির অন্যতম উপকরণ হচ্ছে তুঝা। এক চিমটি উপকরণ নিয়ে হোমিওপ্যাথি ওষুধ তৈরি করা হয়; বারবার জলে বা স্পিরিটে দ্রবীভূত করে ঝাঁকিয়ে, তার থেকে দশভাগ নিয়ে আবার সেটাকে আরও তরল করে তারপর আবার…আবারও…এভাবে আরও দশবার, বিশবার করার পর যদি প্রথম পাত্রের পাওয়ারে জ্বরের মতো ছুটকা ফুটকা অসুখ ভালো হয় তাহলে সর্বশেষ পাত্রের ঔষুধ দিয়ে যক্ষার রোগ সারবে। আদৌ শেষ পাত্রে কোনো উপকরণ মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খুজে পাওয়া যাবে কিনা তাতে অবশ্য আমার সন্দেহ আছে। যাইহোক শেষ বয়সে আমার হোমিওপ্যাথির দোকান দেওয়ার একটা ইচ্ছা অবশ্য আছে। নাম দিব ‘তন্দ্রা হোমিওপ্যাথিক ঔষুধালয় ‘ এর নিচে লেখা থাকবে ‘ড. সাব্বির আহমেদ ‘, আর তার নিচে লেখা থাকবে ‘রোগী দেখার সময় : সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা, শুক্র -শনি বন্ধ’। শুধু রোগীদের দেখলেই তো চলবে না, নিজের স্বাস্থ্যের দিকেও তো খেয়াল রাখা দরকার। তাই শুক্র শনি বন্ধ। তো যা বলছিলাম, আমি হচ্ছি হোমিওপ্যাথিক ঔষুধের মতো। যতদিন যাচ্ছে তন্দ্রাহারা হয়ে যাচ্ছি। অবশ্য সবাই ভাবছে আমি স্বাভাবিকই আছি। আমার নিজেরও বেশিরভাগ সময় তা ই মনে হয়, আমি স্বাভাবিকই আছি। গত এক সপ্তাহ ধরে বোনের বাসায় আছি। একা থাকতে ভয় লাগে, তাই আছি আরকি। তাছাড়া প্রজেক্টের কাজ চলতেছে, জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ই ডিসেম্বর। বাসায় পিসি নাই, বোনের বাসার পিসিতে কাজ সারতেছি (তেছি, তেছ, গেছি, খাইলাম, দাইলাম টাইপের শব্দ ব্যাবহার করতেছি, যাতে মনের ভাব সঠিক ভাবে তোমার কাছে উপস্থাপন করবার পারি)। ১ তারিখে মানিকগঞ্জ যাইতে হবে প্রজেক্টের কাজে। ভাবছিলাম হাতের প্লাস্টার দেইক্ষা স্যারে কইবো, “থাক তোমার যাওয়ার দরকার নাই, গ্রুপের বাকি মেম্বারদের কে তোমার বিষয়টি বলে দেব। তারাই বাকিটা হ্যান্ডল করবে। “, ভাবছিলাম এই সুযোগে আমিও দেবদাস হউয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখবো। সমস্যা হইলো, স্যারেও এই ধরনের কথা বলে নাই, আর আমার ভিতরেও দেবদাসের কোন লক্ষণ দেখা যাইতেছে না। অনেক চেষ্টা করি মন খারাপ করে থাকার, তারপরও কিচ্ছু হচ্ছে না বাড়া। আমার এক বন্ধু আছে রিজভী যে তার স্বভাবসুলভ ফাইজলামির সুরে আমাকে কইলো সেদিন, “বাড়া, তোকে দেখে তো মনেই হচ্ছে না মা কালী তোর পাছায় ছ্যাঁকা দিয়েছে! একটু কান্নাকাটি কর বাড়া, পার্টি -সার্টি দে। গোলাপজলের আয়োজন করবি, তা না দাড়ি গোফ শান করে বসে আছিস।” আমি আসলেই স্বাভাবিক থাকি বেশিরভাগ সময়েই, ততক্ষণই যতক্ষণ কেউ না কেউ আমার পাশে থাকে। যখন ঘুমাতে যাই তখনই শুধু খুব খারাপ লাগে, ভিতরে একটা চাপ অনুভব করি। ঘুম আসতে চায় না, গলা ছেড়ে হেড়ে গলায় কাদতেঁ ইচ্ছে হয়, তাও পারি না। একসময় ঘুমিয়ে পরি … ২৭ তারিখ পর্যন্ত প্রতিটা সকালে আমার ঘুম ভেঙ্গেছে আতঙ্কের সাথে। ধর মর করে উঠে বসতাম, বুক ধর ফর করতো খুব। বুঝতাম দুঃস্বপ্ন কারণে এই উঠে বসা, কিন্তু উঠার পর কি দেখেছিলাম তা মনে করতে পারতাম না। অনেকক্ষণ পর হঠাৎ করে মনে পরত, সাথে সাথেই শর্টনোট করে রাখতাম। গত দুইদিন ধরে তা আর হচ্ছে না, কারণ রাতে আর ঘুমাই না। ৫ টার দিকে ঘুমাতে যাই, আর উঠি বোনের চিল্লাচিল্লির আওয়াজে… জামাইয়ের সাথে নিত্যদিনের চিল্লাচিল্লি। তখন মনে হয়, না শালা ভালোই আছি। এই তন্দ্রা ছন্দ্রা চাঙ্গে উঠাইয়া নতুন উদ্দ্যমে যেগে উঠি। কিন্তু আমি জানি তা আমার দ্বারা সম্ভব না। এটা আমি যেমন জানি, তোমার দিদিও ঠিক তা ই জানে। ও প্রায়শই বলতো, “তোমার গুদ্দাটা অনেক বড়”। আমি বলেছিলাম গুদ্দা কি? ও বলল মানুষের যেই জায়গায় নাকি সাহস থাকে অই জায়গাটার নাম ‘গুদ্দা ‘। (আমি কিন্তু ভাবছিলাম অশ্লীল কিছু)। সাহসের কথা বললে বলতে হবে আমার গুদ্দা আসলেই অনেক বড়। তা যে ঠিক কত বড়, তা হয়তোবা তুমি একদিন দেখতে পারবা । এখন দেখা যাক এই গুদ্দার কাজ ভালো কিছুতে লাগাতে পারি কিনা।

– ইতি বড় গুদ্দাওলা একজন ব্যর্থ প্রেমিক পুরুষ। (প্রেমিক পুরুষ লেখার পর মনে পড়ল, সাকিব খানের এই নামে একটা ছবি আছে। ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী। অপু বিশ্বাস আর রুমানা আছে। সময় পাইলে দেখবা কিন্তু।)

এমিনেম উপখ্যান :শেষ পর্ব

আমার হায়াত আর কতদিন আছে আমি জানি না। উপরে যদি সত্যিই কেউ থেকে থাকে উনি হয়তোবা জানেন। আমি অবশ্য কমসে কম ১০০০ বছর সুস্থভাবে বাঁচতে চাই। বেচেঁ থাকার এই প্রবল ইচ্ছাটা দিন দিন ব্যাঙ্কের সুদের মতো চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে। গত একমাস ধরে মৃত্যুভয় আমাকে প্রায় জেকে ধরেছে। তাই ভাবছি একদিন যেহেতু মরতেই হবে, মরার আগে আমার পচ্ছন্দের জিনিসগুলোর একটা লিস্ট করে রেখে যাই। আমার যদি একজনও কাছের মানুষ থেকে থাকে, সে হয়তো এই জিনিসগুলোর মধ্যেই আমাকে খুজে পাবে। এই তাগাদা নিয়েই প্রিয় গান, মুভি, বই এর এক একটি লিস্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার বাসার পিসি আজ থেকে আরো ৪ বছর আগে নস্ট হয়েছে, তারপর আর পিসি কিনা হয়নি। ভার্সিটির গ্রেজুয়েশনও শেষ করলাম নিজস্ব একটা পিসি ছাড়া। টুক টাক এসাইনমেন্ট মোবাইলেই সেরে ফেলতাম, আর টার্ম পেপার, প্রোজেক্ট এর কাজ করেছি কখনো আমার বন্ধুর পিসিতে আবার কখনো বোনের বাসার পিসিতে বসে। আমার পছন্দের লিস্ট করার জন্য অন্যের কোন জিনিস ব্যবহার করতে মন টানছিল না, তাই মোবাইলে বসেই গত ১৫ দিন ধরে ৬ – ৭ টা লিস্ট বানাচ্ছি। এই লিস্টগুলোর মধ্যে আমার সব থেকে পছন্দের লিস্ট হচ্ছে আমার শোনা সাড়ে ছয় শো গানের মধ্য থেকে বাছাইকরা ২৫০ গানের লিস্টটা। এই গানের ডাউনলোড লিঙ্কগুলো মোবাইল দিয়ে খুজে বের করে আবার মোবাইলেই ওয়ার্ড ফাইলে এন্ট্রি করাটা হচ্ছে খুব ঝামেলার কাজ। তারপরও আমি ধর্য্য ধরে করে যাচ্ছি শুধুমাত্র আমার কিছু স্মৃতি রেখে যাবার আসায়।

যাইহোক আর প্যাচাল করতে চাচ্ছি না। আড়াইশো গানের লিস্ট এ আমি ইচ্ছা করেই আমার প্রিয় আর্টিস্ট এমিনেমের কোন মৌলিক গান রাখিনি। আমার কাছে মনে হয়েছিলো ওকে ঐ লিস্টে রাখাটা হবে ওর জন্য অপমানজনক :p। তাই এমিনেমের মৌলিক এবং সেরা ৮০ টি গান থেকে আমি বাছাই করে আমার পছন্দের ২০ টি গান নিয়ে আলাদা একটা লিস্ট করেছি। আজকের পোস্টটি তাই শুধুমাত্র এমিনেমের গান নিয়েই …
……………………………………………………………..
আমি কিন্তু র্‍্যাপ গান এমিনেমের ছাড়া শুনি না। এমিনেমের গান শুনি, কারণ আমি গল্প শুনতে পছন্দ করি। আপনি যদি এমিনেমের গান খুব মনোযোগ দিয়ে শুনেন তাহলে দেখবেন আপনি ওর জীবনের গল্পই শুনছেন … এক একটি গান, এক একটি অধ্যায় …তাই আপনি যদি এর আগে ওর গান পছন্দ নাও করে থাকেন বা না শুনে থাকেন, অন্তত ওর তিনটি গান লিরিকস্ সহ মনযোগ দিয়ে একবার হলেও শুনে দেখেন। আমার মনে হয় আমার মতো আপনারও ভুল ভেঙ্গে যাবে…
…………………………………………………………….
অস্কারের ইতিহাসে সর্বপ্রথম আর একমাত্র একাডেমী এওয়ার্ড পাওয়া র্‍্যাপ গান হচ্ছে Lose Yourself. ২০০৪ সালে Rolling Stone ম্যাগাজিন এই গানটাকে একবিংশ শতাব্দীর সেরা ৫০০ গানের মধ্যে ১১৬ তমতে নির্বাচিত করেছিল। সেই সময় ঔ লিস্টে এই গান ছাড়া আর মাত্র দুইটি গান ছিল পপ ধাচের! আমি গান নিয়ে অনেক ফ্যাক্টও আছে। তার মধ্যে একটা হচ্ছে, এই গান শুনে রাগবি খেলতে নামলে জিতার চান্স ৫০ ভাগ বেড়ে যায়, আর গাড়ি চলাকালীন সময়ে শুনলে এক্সিডেন্টের হাড় ৫০ ভাগ বেড়ে যায়! আমি বলবো, এই গান আপনার রক্তচাপ অবশ্যই বাড়িয়ে তুলবে। আমি ঠিক করেছে আমি ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢুকার ঠিক আগ মূহুর্তে এই গান শুনে ঢুকবো। আর আপনি চাইলে মারামারি বা পিডাপিডি করার আগ মূহুর্তে শুনলেও ভালো কাজে দিবে :p
1 Lose yourself – Eminem link: http://www.hiphoplegendshow.com/songs/Eminem Lose Yourself.mp3
…………………………………………………………..

আমি lose yourself থেকেও বেশী যে গানটি শুনি তা হচ্ছে Beautiful। যাদের সদ্য ব্রেক আপ হয়েছে তারা এই গান শুনে ষোলো কলা উসুল করতে পারবেন। আমি ব্রেক আপের পরবর্তীকালীন ঝড়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, আমি জানি এই সময়ের উপলব্ধি আপনি কখনোই কাউকে বুঝাতে পারবেন না। এই গানে এটাই বুঝাতে চেয়েছে এমিনেম। গানের শেষ লাইনগুলো এমিনেম তার ছোট মেয়েকে উদেশ্য করে লিখেছে…
2 Beautiful – Eminem
Link: http://ihiphop.com/featuredAudio/9557.mp3
……………………………………………………………..

Lighters গানটা আপনি লিরিকস্ সহ শুনলেও এমিনেমের সাথে তাল মিলাতে পারবেন না। তাছাড়া এটা কোলাবোরেট গান, তাই Bruno Mars এর পার্ফরমেন্স এই গানের প্রাণ বলা চলে।
3 Lighters – Eminem
Link: Click This Link
……………………………………………………………..

আমি সদ্য হাতের রগ কেটেছিলাম। আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি, আমি যদি কাটার আগে একবার হলেও Till I Collapse গানটা শুনতাম আমি হয়তো হাতের রগটা কাটতাম না।
4 Till I Collapse – Eminem
Link: Click This Link
……………………………………………………………..

এই গানটা সবার জন্য না। বিশেষ করে যাদের রক্তে বিলিরুবিন বেশী তারা এই গানটা শুনে উপভোগ করতে পারবেন।
5 The Way I Am – Eminem
Link: Click This Link
……………………………………………………………..
এমিনেমের ফানি দিকটা ভালো ভাবে ধরার জন্য এটা একটা পার্ফেক্ট গান। তাছাড়া এই গানে এমিনেমের ইগোও উপভোগ করার মতো। এই গানে এমিনেম boy bands, Limp Bizkit, Dick Cheney, Lynne Cheney, Moby এর মতো আর্টিস্টদের অসন্মানজনক মন্তব্য করেছে। যা শুনতে আপনার হয়তো খারাপ লাগবে না :p
6 Without Me – Eminem
Link: Click This Link
……………………………………………………………..
যারা এমিনেমের গান শুনে না, তাদের কাছেও space bound ভালো লাগার কথা। দেখেন আপনার লাগে কিনা।
7 Space Bound – Eminem
Link: Click This Link
……………………………………………………………..
এমিনেমের টপ লিস্টের ২ নাম্বার পজিশনে এই গানটা আছে।
8 Not Afraid – Eminem
Link: Click This Link
……………………………………………………………..
এই গানটার পুরোটাই এমিনেম তার মেয়ের জন্য গেয়েছে। মিউজিক ভিডিও সহ দেখলে ভালো লাগা উচিত।
9 When I’m Gone – Eminem
Link: 003.audiopoisk.com/get-server/05091c0318001b0704081503000905100213030100050803505405500e0151020c5401575801095300095404070854010009/6647014/MTM1NjAwNzIwMjo0NzUxNzA3YzVhNzU0MTA2MTkwNTAyMTkwZjFkMDAwNTFjMDEwNTRmNmE1ZDVlNDY1ZTA0MDUwMjA1MGIxZTA4NzIwZjFlNDk0YjU3NWY1OTUyNWY1ZTVlNWI2ZTU4NTI1NjVmNTk1MjE5NWY1MzUxNTUxNzQzNGM6cHJvbmljaGtpbl9sZW9uaWRAbWFpbC5ydTo=/0/138663/MTE5LjMwLjQ1LjEwNzEzODY2M29zNmlmM2VvOW9zNmlmM2VvOQ==/Eminem – When I’m Gone (audiopoisk.com).mp3
……………………………………………………………..
আমার মনে হয় এই গানের পরিচয় না দিলেও চলবে, অধিকাংশ ইয়াং জেনারেশন এই গানের প্রথমার্ধ রিংটোন হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে। এই গানের পার্ট টু ও আছে, অরিজিনাল ভার্সনের নিচেই তার লিংক দেওয়া আছে।
10 Love the way you Lie – Eminem
Link: http://dl.soundowl.com/4224.mp3
Instrument: http://ftp.luoo.net/radio/radio198/11.mp3
Part 2: Click This Link
……………………………………………………………..
Mockingbird ও এমিনেম তার মেয়েকে নিয়ে গেয়েছে। উপভোগ্যের চেয়ে উপলব্ধি করার মতো গান। অবশ্যই লিরিকস্ সহ শুনবেন।
11 Mockingbird – Eminem
Link: Click This Link
Instrumental: Click This Link
……………………………………………………………..
এমিনেমের টপ লিস্টেড ৬৯ তম গান এটি। কোলাবরেটেড গান এটি, 50cent, Dr. Dre এর পার্ফরমেন্স উপভোগ্য।
12 Crack a bottle – Eminem
Link: Click This Link
……………………………………………………………..
গানের ইন্ট্রো অসাধারণ, Dido এর প্রশংসা না করে পারবেন না। এমিনেমের অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পিছনে তার প্রিয় আংকেল রুনির অবদান ছিল। আংকেল রুনির সুইসাইডের পর এমিনেম মুর্ষে পরেছিল, তাই আপনি এমিনেমের বাম হাতের উপরে ‘Ronnie R.I.P ‘ ট্যাটু দেখতে পাবেন। এই গানে রুনিকে সে এক জায়গায় মেনশন করেছে। তাছাড়া আপনি ১.৫ ঘন্টার একটা মুভির পুড়াটাই ৬ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে উপভোগ করবেন এই গানে। সব মিলিয়ে গানটি অসাধারণ একটি Rap সং। আর এ জন্যই হয়তো Q. ম্যাগাজিন এই গানকে সর্বকালের সেরা ৩য় Rap গানের উপাধি দিয়েছে, আর Rolling Stone ম্যাগাজিন একবিংশ শতাব্দীর সেরা ৫০০ গানের মধ্যে ২৯০ স্থানে রেখেছে। আমি বলবো, আপনার একটি মুভি হলেও শোনা উচিত আর মুভির নাম হচ্ছে, Stan!
13 Stan – Eminem
Link: http://slimgarynadege.free.fr/.zic/Eminem – The Marshall Mathers Lp/03 – Eminem – Stan (Featuring Dido).mp3
……………………………………………………………..
Bully কি জানেন তো? Bully হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে স্কুলে থাকাকালীন সময়ে আপনার পিছনে লেগে থাকতো। এই গান এমিনেমের বুলিকে নিয়ে, যে কিনা এই গান রিলিজ হউয়ার পরেও তাকে শান্তিতে থাকতে দেইনি!! মামলা ঠুকে দিয়েছিল তার নামে!
14 Bully – Eminem
Link: Click This Link
……………………………………………………………..
এই গানে এমিনেমের দুঃখ গাথা ফুটে উঠেছে। আংকেল রুনিকে এখানেও পাবেন আপনারা।
15 Cleaning out my Closet – Eminem
Link: Click This Link
……………………………………………………………..
গানটা ভালো :p। মেয়েদের সন্মানিত করা হয়েছে ভালোভাবে :p
16 Superman – Eminem
link: Click This Link – Eminem Superman.mp3
……………………………………………………………..
নিচের গান গুলোতে বলার মতো কিছু খুজে পাচ্ছি না। আমার কাছে ভালো লেগেছে এতোটুকুই বলতে পারি…
17 No love (Feat. Lil Wayne) – Eminem
link: Click This Link).mp3
18 The real Slim Shady – Eminem
Link: Click This Link
19 Sing For The Moment – Eminem
Link: Click This Link
20 My Name Is – Eminem
link: Click This Link
21 Cinderella Man – Eminem
Link:
Click This Link
…………………………………………………………..
আজ এ পর্যন্তই, বেচেঁ থাকলে আবারও হয়তোবা আপনাদের বিরক্ত করবো … :)
সে পর্যন্ত ভালো থাকবেন এবং অবশ্যই সুস্থ থাকবেন … not lose yourself, be yourself.
…………………………………
…………………………………

ত্রিভকালের প্রান্তরে : ‘গু’ সমাচার ও একজন আবুলের গল্পের প্রারম্ভিকা

১৮ই নভেম্বর ২০১২, রাত তখন বাজছিল ৪ টার কাছাকাছি, হয়তোবা আরো বেশীও হতে পারে। আমি বাথরুমে যাবার আগে সময় দেখিনি, দেখা উচিত ছিল। তাহলে আপনাকে পার্ফেক্ট সময়টা বলতে পারতাম। সময় জানাটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিলো, কারণ তার কিছুক্ষণ পরেই আমি তন্দ্রাদের বাসার দূর্গন্ধময় বাথরুমে গিয়েছিলাম। আপনি হয়তো ভাবছেন, বাথরুমে যাওয়া নিয়ে কাহিনী করছি কেন আমি?

কাহিনী করছি কারণ সবার জীবনেই কাহিনী আছে, প্রত্যেকটা মূহূর্তের এক একটি কাহিনী। এক একটি ফ্রেম নিয়ে এক একটি কাহিনী। সিঙ্গেল ফ্রেমের কাহিনী যেমন আছে, মাল্টিফ্রেমেরও আছে। ‘পাদ’ মারা যদি সিঙ্গেল ফ্রেমের হয়ে থাকে তাহলে পায়খানা করা হচ্ছে মাল্টিফ্রেমের কাহিনী, প্রথমে প্যান্ট খুলো (বেল্ট থাকলে আগে বেল্ট, আর পাঞ্জাবি পড়া থাকলে আগে পাঞ্জাবি), তারপর বদনা হাতে নিয়ে পজিশন করে বসে পড়া। আমি আবার হাই কমোডে হাগতে পারি না, মানে ইংলিশ কমোডে। অনেকের যেমন উচ্চতা ভীতি, মাকড়শা ভীতি, তেলাপোকা ভীতি আছে , আমার তেমন হাই কমোড ভীতি আছে। মেডিকেল সায়েন্সে হয়তো এই সংক্রান্ত কোন ফোবিয়া থাকলেও থাকতে পারে, ‘হাইকমোডভিয়া’,বা ‘কমডোফোবিয়া ‘। অসম্ভব কিছু না, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে ‘Taboo ‘ বা ডিসকোভারি চ্যানেলে ‘sqamish ‘ এর কোন না কোন পর্ব দেখে থাকলে আমার হাই কমোড ভীতি আপনার কাছে মোটেই আশ্চর্যজনক মনে হউয়ার কথা না। আমার হাইকমোডোভিয়া নিয়েও হয়তো কোন একদিন এপিসোড দেখাতে পারে। হয়তোবা আমাকেই শো এর হোস্ট পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলবে,

“ইনি হচ্ছে ‘সাব্বির আহমেদ ‘, যিনি কিনা গত ২২ বছর ধরে ‘হাইকমোডোভিয়া ‘ নামক অত্যন্ত জটিল এবং হাস্যকর রোগে ভুগছে। যার কারণে হাইকমোডে বসা মাত্র উনার পোন্দের গু মাথায় উঠে যায়, হার্ট বিট বেড়ে যায়, হাত পা ঘামাতে শুরু করে, ব্লাড পেশার বেড়ে যায় কিন্তু তারপরও …তারপরও উনার পোন্দে দিয়ে গু বাহির হয় না …”

..অসম্ভব কিছু না। এই ভীতি থাকার কারণে আপনি চাইলে আমাকে ‘গ্রামের অশিক্ষিত চাড়াল’ বলে গালিও দিতে পারেন, আমি কিছুই মনে করবো না। আপনি হয়তো রাজকীয় ভাবে বসে জ্ঞানী ভাব ধরে হাগতে বেশী পছন্দ করলেও করতে পারেন, তবে আমি করি না। ‘জ্ঞানী ভাব ধরা’ বলতেই মনে পড়লো একজনের কথা। আমাদের সাথে ঢাকার শাহজাদপুরে এক ছেলে থাকতো, নাম সাইফ। সে আবার সকালবেলার প্রাতরাশের পর খবরের কাগজটা নিয়ে হাইকমোডওলা বাথরুমে ঢুকতো, আর বের হতো পুরো খবরের কাগজ শেষ করে। এর মধ্যে আমরা মাঝেমধ্যে ভুলেও যেতাম, বাথরুমে কেউ কি আসলেই আছে, নাকি নাই! কারণ কোন সাড়াশব্দ পেতাম না, এমনকি পানি খরচের শব্দও না! প্রথমআলো পত্রিকায় নূন্যতম ২৪ পৃষ্ঠা থাকে (ক্রোড়পত্র বাদে)। একমিনিট করে প্রতি পৃষ্ঠা পরলেও ২৪ মিনিট লাগবে। এখন সাইফ যদি প্রথম দলা ২ মিনিটে আর শেষ দলা ৫ মিনিটে বের করে, তাহলে তার পায়খানা ৯ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়া উচিত। আর বাকি ১৫ মিনিটে সে যদি পানি খরচ না করে পেপার পড়েই যায়, তাহলে তার গুয্যদ্বারে লেগে থাকা গু শুকিয়ে যাওয়ার কথা। আর আপনি যদি সায়েন্সের স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন, আপনি নিশ্চয়ই জানেন গু কি কি উপাদান দিয়ে গঠিত হয়ে থাকে। তাই সাইফের গু যদি বাদামি রঙ্গের হয়ে থাকে তাহলে bile আর bilirubin এর কারণে mucus আস্তরণ তৌরি যাবে। যার ফলে গুয্যদ্বারে লেগে থাকা গু ১৫ মিনিটে নরম থেকে কঠিন হয়ে যাবে, আর তা তখন পানি দিয়ে হালকা ঘষা দিলেও উঠবে না। তখন যা করতে হবে তা হচ্ছে, পানি দিয়ে প্রথমে হালকা ভাবে ভিজিয়ে রাখতে হবে আর তার দুই মিনিট পর নরম হয়ে গেলে গুয্যদ্বার পরিষ্কার করতে হবে। আপনি হয়তো ভাবছেন আমি গু নিয়ে এতো ব্যস্ত হয়েছি কেন। ব্যস্ত হতে হয়, ‘গু ‘ গু বলে আমি মোটেই তাকে ছোট চোখে দেখি না। মানুষের হাত দেখে যেমন ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে পামিস্টরা, আমি তেমন গু দেখে একটা মানুষ সম্পর্কে অনেক কিছুই বলতে পারি।আপনি হয়তো ভাবছেন আমি গুলপট্টি মারছি, বা ফাজলামো করছি। …আমি মোটেও গুলপট্টি মারছি না, আবার ফাজলামোও করছি না।

মানুষের গু ছয় রকমের হয়ে থাকে। রকম না বলে ছয় রঙ্গের বলাটা মনে হয় ঠিক হবে। আর এসব রং খেয়াল খুশী মতো হয় না বরং নির্ভর করে মানুষের খাদ্যাভ্যাস, চাল -চলন, আর স্বাস্থ্যের উপর। অর্থাৎ একজন ব্যাক্তি কিভাবে জীবনযাপন করছে তা সহজেই ফুটে উঠে তার গুয়ের মাধ্যমে।

বেশিরভাগ মানুষের গু সাধারণত হালকা থেকে গাড় বাদামি রঙ্গের হয়ে থাকে। তাই আপনার গুয়ের রং যদি বাদামি বর্ণের হয়ে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে আপনি একজন আমজনতা। আমজনতা হউয়া খারাপ কিছু না, বাদামি গু ভালো স্বাস্থ্যেরও ইঙ্গিত করে থাকে। কারণ মৃত লাল রক্তের কোষের থেকে নির্গত বিলিরুবিন আর বাইলের সাথে মিশে বাদামি বর্ণ ধারণ করে থাকে এই গু। ইনফেকশন দ্বারা আক্রমণ হয় না বিধায় কোষ্ঠের বর্ণ বাদামি হয়।আর এই ধরণের গু মধ্যম ধাচের শক্ত হয়ে থাকে মুকাস আস্তরণের কারণে। তাই কারো গু যদি আপনি বাদামি বর্ণের দেখে থাকেন, তাহলে বুঝবেন ঐ ব্যক্তির চালচলন সাধারণ গোচের, মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির খেটে খাওয়া মানুষ। যার গু যত বেশী গাড় রঙ্গের হবে সে ততটাই সাধারণ।

কোষ্টের বর্ণ হলুদ হয়ে থাকে এক প্রকার সংক্রামকের কারণে, গিয়ার্ডিয়াছিছ হচ্ছে ঐ সংক্রামকের নাম। গিয়ার্ডিয়াছিস শব্দটা আসছে গিয়ার্ডিয়া থেকে, যা হচ্ছে একপ্রকার এনারোবিক প্রোটোজোয়ান পরজীবী। এই পরজীবী যতবেশী সংক্রামক হবে গু ততই হলুদ হবে। আর খুব বেশী বেড়ে গেলে ডায়রিয়া হউয়ার চান্স ৮০ ভাগ। তাই আপনি যখন দেখবেন কারও গুয়ের রং হলুদ, আপনি বুঝবেন ওর শরীরে ফ্যাট আছে, জীবনযাপন অনিয়ন্ত্রিত, লোভী, আবেগপ্রবণ আর বাচাল গোছের হয়ে থাকে। পার্টি পছন্দের দিক থেকে এরা বেশিরভাগ বিএনপির সাপোর্টার হয়ে থাকে। গু হলুদ হউয়ার আরেকটি প্রধান কারণ হল ‘গিলবার্ট সিনড্রোম ‘। এই অবস্থা সাধারণত দেখা যায় পান্ডুরোগ এবং হাইপারবিলরেবিনিয়ার সময়, যখন রক্ত সঞ্চালনের সময় বিলিরুবিনের উপস্থিতি খুব বেশী বেড়ে যায়। অর্থাৎ যাদের গু হলুদ হয়ে থাকে তাদের ভেবেচিন্তে কাজ করার ক্ষমতা কম থাকে। ‘ধুম ধাম, পুটকি উধাও’ নীতিতে এরা বিশ্বাসী হয়ে থাকে। যদিও আমি বি.এন.পির সমর্থক নই,তবুও আমার গু কিন্তু বেশিরভাগ সময় হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে।

গু কালো বা লাল রঙ্গেরও হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে লাল রক্তের কোষ নাড়িভুড়িতে উপস্থিত থাকার কারণে এটা বেশিরভাগ সময় হয়ে থাকে। নাড়িভুড়িতে দীর্ঘক্ষণ থাকার কারণে এই কোষগুলো ভেঙ্গে ডাইজেস্টিভ এনজাইমে রূপান্তরিত হতে পারে না। এটাকে বলে মেলিনা, এবং এটা সাধারণত হয়ে থাকে মানবদেহের উপরিভাগ ডাইজেস্টিভ রাস্তায় রক্তপাত হউয়ার কারণে। এই রক্তপাত আবার বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে, হতে পারে সেটা পেপটিক আলসার থাকার কারণেই। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে, আপনার গ্যাস্ট্রিকের বড়সড় সমস্যা আছে কিনা। যদি থেকে থাকে তাহলে আপনার লাল বা কালো গু হাগার একটা অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যদি কারো গু এই বর্ণের হয়ে থাকে, বুঝবেন সে চরম মাত্রায় হতাশাগ্রস্থ। এই পৃথিবী আর তাকে চায় না। এই ধরনের ব্যক্তিরা হালকা গড়নের হয়ে থাকে, ভাবুক স্বভাব এদের মধ্যে চরমভাবে বিরাজমান। এদেরকে আপনি ৩ টাকা দামের সিঙ্গারা খাওইয়া ৩০০০ টাকার কাজ সহজেই করিয়ে নিতে পারবেন। এই গোত্রের বেশিরভাগ লোকের প্রথম পছন্দ ‘দেশি গাঞ্জা’। আর ‘চাইনিজ মোবাইলের ‘ প্রতি এরা কিছুটা দূর্বল হয়ে থাকে। সব থেকে মজার বিষয় হচ্ছে এদেরকে দেখে অনুমান করা সহজ যে এরা এই গোত্রের, যা অন্য গোত্রের ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। আবার খাদ্যভাসের কারণেও কিন্তু গু লাল বর্ণের হয়ে থাকে, যেমন লালশাক, রু -আফজা বা অধিক পরিমাণে রেড মিট খাওয়ার কারণে। মূল পার্থক্য হচ্ছে আপনি গু দেখলেই বুঝতে পারবেন, কে গোত্রের কারণে আর কে ই বা রু -আফজার কারণে।

গু কালো বর্ণের হয়ে থাকে সাধারণত ঔষুধ সেবনের কারণে। কালো গু গঠন হয়ে থাকে খাদ্যে আয়রণের আধিক্যের কারণে। আমরা যে ভিটামিন খাই বা আয়রন ট্যাবলেট, এই আয়রন আমাদের বর্ণিল গু কে কালো বানিয়ে দেয়। কালো গু খারাপ না। তারাশঙ্কর ‘কবি ‘ উপন্যাসে লিখেছেন,

“কালো যদি মন্দ তবে কেশ পাকিলে কাঁদ কেনে?”

ঔষুধ সেবন ছাড়া আপনি যদি কালো গু হেগে থাকেন তাহলে বুঝবেন আপনি একজন সুঠাম দেহের অধিকারী। কালো গুয়ের পুরুষ ব্যাক্তিদের ছেলে সন্তান হউয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। ফাউ কথা বলছিনা, লজিক থেকেই বলছি। ‘Y’ ক্রোমজম গঠনে আয়রণের বিশেষ ভূমিকা আছে। তাই যার হবে কালো গু তার ছেলে শিশু হউয়ার সম্ভাবনা অইত্যাধিক। কালো গুয়ের মানুষেরা সাধারণত দৃড়চিত্তের হয়ে থাকে, কথা কম বলে, আর আবেগের চাইতে মাথা খাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে বেশী। এদের গায়ের রং কালো বা উজ্জ্বল শ্যামলা হউয়ার কিছুটা সম্ভাবনা থাকে। এরা মিথ্যাচার সাধারণত খুব একটা করে না, আর করলেও সেই মিথ্যা আপনি সহজেই ধরতে পারবেন।

কোষ্টের বর্ণ নীল, রূপালী, অথবা সবুজ বর্ণেরও হতে পারে। এই তিন বর্ণের গু আমার মনে হয় না আপনি ইহকালে দেখিবার সুযোগ পাইবেন। বড়জোর গ্রেপ সোডা খেয়ে গুয়ের বর্ণ নীলাভ করার একটা চেষ্টা করতে পারেন মাত্র। তা ও মনে হয়না কাজে দিবে। তাছাড়া কারও যদি থেলিয়াম পয়জনিং এ ভুগে Prussian Blue প্রয়োগের কারণে কোষ্টের বর্ণ নীলাভ হতে পারে। তবে হ্যাঁ, আপনি যদি অত্যাধিক পরিমাণে চিনি খেতে পারেন তাহলে ডাইজেস্টিভ এরিয়াতে Bile এর মাত্রা বাড়াতে তরল সবুজাভ গু হাগার এক অপূর্ব মূহুর্ত অবলোকন করার এক অনন্য সৌভাগ্য আপনি অর্জন করতে পারেন। এইসব বর্ণের গু আমার সচক্ষে দেখার সুযোগ হয়নি, তাই এদের ব্যাপারে আমি অজ্ঞই বলা চলে। তাই এই গোত্রের মানুষ কি রকম হবে, তা বলা আমার জন্য অসম্ভব।

আমি আগেই বলেছি, অসম্ভব কিছুই না। আপনি যে বিরক্ত হয়ে আমার লেখা পড়া বন্ধ করে দিয়েছেন তাও অসম্ভব না। আবার হয়তো করার মতোই কিছুই নাই দেখে হয়তো কান চুলকাতে চুলকাতে পড়ে যাচ্ছেন ভ্রু কুচকিয়ে, এবং চোখদুটো আধা খুলে। চোখদুটো আধা খুলে রেখেছেন কারণ এখন আপনি আরাম পাচ্ছেন। মানুষ যখন জাগ্রত অবস্থায় আরাম পায় তখন তার চোখদুটো আধা খোলা থাকে আর আধা বন্ধ থাকে। এটা আমার কথা না, এটা ডক্টর বেঞ্জামিনের কথা। তাই আপনি যেহেতু এখন কান চুলকাচ্ছেন তাই আপনার চোখ আধা খোলা থাকাটাই স্বাভাবিক। একটা পরামর্শ দিচ্ছি, কান চুলকানি বন্ধ করার পর যেটা দিয়ে চুল্কাছিলেন তা একটু নাক দিয়ে শুকে দেখবেন। এতে ছি ছি করার কিছুই নাই। আমরা আসলে কান থেকে যে খৈল বের করি তাকে যদি আপনি ময়লা বলে ছি ছি করেন তাহলে এটাকে অপমান করা হবে। এগুলো আসলে হচ্ছে একপ্রকার মোম যা আমাদের কানকে বাহিরের বাতাস আর পানি থেকে মুক্ত রাখে। আর এই খৈ লে কিন্তু এলকোহলও থাকে। তাই বলছিলাম শুকে দেখার জন্য। এলকোহলের ঘ্রাণও কিন্তু নেশা তৌরিতে সহায়ক। একবার শুকে দেখবেন কি?

যাইহোক আমি এখানে কান চুলকানি বা গু নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক করার জন্য আসি নাই। আমি আসছি আমার জীবনের কাহিনী শোনানোর জন্য… একজন আবুলের কাহিনী …

কাহিনী শুরুতেই একটু রস মার্কা কথা ঢেলে দিলে ভালো হয়, আপনার আগ্রহ জিইয়ে রাখতে পারবো। (একটা জিনিস লক্ষ্য করেছেন, মানুষ যে খুব আজব প্রাণী! জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চেষ্টা করে যায় অন্যের আগ্রহ ধরে রাখার।জন্মের পর পরই কান্না জুড়ে দেয় সবার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য, আবার মৃত্যুর পরও সবাইকে কাঁদিয়ে সেই আগ্রহ কিছুক্ষণের জন্য হলেও জিইয়ে রাখে। বড়ই আজব প্রাণী…) এখন আমার আগ্রহ ধরে রাখার রসের কথাটা হচ্ছে, আমি গত ৭ বছর আমার বড় বোনের বান্ধবীর সাথে ‘পলান টুক টুক ‘ খেলছি। প্রেমিকের ভাষায় যাকে বলে ‘প্রেম ‘, আর মুরুব্বীদের ভাষায় যাকে বলে ‘নষ্টামী ‘। আপনি হয়তো ভাবছেন এতে রসের কি হইলো!!! ভাবতেই পারেন, ভাবনা আপনার তয় তালগাছ আমার। কারণ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৫-২৭ বছরের পুরুষদের ৬৭ শতাংশ তার থেকে বয়সে বড় মেয়েদের বা বেডিদের প্রতি আগ্রহ বেশী থাকে। মেয়েদের বেলায় বয়সের গন্ডিটা আবার একটু কম, তবে শতাংশের দিক দিয়ে বেশী। ১১-১৯, এই বয়সের মেয়েরা নাকি মাত্রাতিরিক্ত বয়সের পুরুষদের ব্যপারে ‘বিশেষভাবে ‘ আগ্রহী হয়ে থাকে। বাপ – চাচা বয়সী লোকদের কাছে নাকি নিজেদের দেহ সপে দিতে কুন্ঠিত বোধ করে না! অভিজ্ঞতা বলে কথা… সপে তো দেওয়া যেতেই পারে। সাম্প্রতিক সময়ের প্যান্থারের এড দেখে তো মনে হয়, তারা ইতিমধ্যেই ‘আসল পুরুষের ‘ মেডেল পেয়ে গেছে। যাইহোক, বেশিরভাগ পুরুষের মতো আমারও ম্যাচিউর ওমেন এক নম্বর পছন্দ। যদিও তন্দ্রার সাথে রিলেশন হউয়ার সময় এতো কিছু মাথায় ছিলো না। তখন মন ছিল নরম ভেজা মাটির মতো, আর নরম মাটি পাইলে তো বিলাইও নাকি হাগে!!!

আরেকটু রস ঢালি, আমি আবার অল্পতে বিশ্বাসী না। ঢালবো যখন বোতল উপুড় কইরাই ঢালবো। তাছাড়া কাষ্টমারও তো ধরা লাগবে। আমার তো মনে হয় কান চুলকানো যাদের শেষ তারাও হয়তো গেছে গা। যাইহোক লেখা যখন শুরু করছি তখন থামলে মান সন্মানের ব্যপার। মান -সন্মান আবার অনেক বড় জিনিস, আর নিজের কাছে নিজের মান সন্মান হাড়ানোও লজ্জার বিষয়। যাই হোক যে কথা বলছিলাম, তন্দ্রা আমার থেকে বড় হবার পাশাপাশি আরেকটা বিষয় আছে, যা আপনাদের সুড়সুড়ি একটু হলেও দিতে পারে। আর তা হচ্ছে, সে হিন্দু আর আমি মুসলিম। হিন্দু মেয়েদের যে মার্কেটে ডিমান্ড আছে সে বিষয়টা হয়তো আপনি কিছুটা হলেও ওয়াকিবহাল। কোন ক্ষেত্রে ডিমান্ড, তা হয়তো সহজেই বুঝতে পারছেন। তাই আর খোলসা করলাম না। যদিও আমি তাসলিমা নাসরীনের মতোই জানি, এখানে অনেকেই আছেন যারা সুশীল সমাজের মুখোশ পড়ে রসময় সাহিত্য চর্চা করতে পছন্দ করেন। কথা হচ্ছে এই বিষয়ে আমারও কোন আপত্তি নেই বা থাকা উচিত নয়। আরে ভাই শারীরবৃত্তীয় চাহিদা তো শরীরেরই একটি অংশ, নাকি। এটা নিয়ে এতো মাতামাতির কি আছে!! হিন্দু ধর্মে কামশাস্ত্র তো ধর্মেরই একটি অংশ, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পাগান অনুসারীদের মতে স্ত্রী -লিংগম হচ্ছে একটি সর্গীয় ব্যপার। আর বিজ্ঞানীদের মতে জাগ্রত অবস্থায় মানুষ নাকি একমাত্র একটি কাজই পূর্ণ মনোযোগ, একনিষ্ঠ, আন্তরিক, এবং আনন্দের সহিত করতে পারে, আর তা হচ্ছে ‘সংগম ‘। আর এই সংগমের কায়দা কানুন হিন্দু মেয়েরা জানে বিধায় তারা তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে করতে পারে। যার কারণে উপমহাদেশে হিন্দু মেয়েদের এতো ডিমান্ড। যাঃ শালা বলেই তো দিলাম মুখ ফসকে!!!

যাইহোক সংগম স্বর্গীয় সুখ হোক আর নরকীয়, হিন্দু মেয়েদের ডিমান্ড থাকুক আর না থাকুক, আর আপনারা বিশ্বাস করেন আর না ই বা করেন, তন্দ্রার সাথে আমার গত ৭ বছরে অনেকবার রুমডেট হলেও আমরা কিন্তু সেই স্বর্গীয় সুখ উপভোগ করিনি একটি বারের জন্যও … না আমি নৃপুংশক নই, আবার আমি ধজভঙ্গতেও ভুগছি না, এবং আমি সাধু গোত্রীয় মানুষও নই। আমি হাজি বংশের ছেলেও না, তন্দ্রার বাবাও কোন পুরোহিত নয়। আমি রবিন্দ্রনাথের চাইতেও এমিনেমের গালিগালাজ পূর্ণ গান শুনতে বেশী ভালোবাসি, তন্দ্রাও ইমরান হাসমির ছবি দেখতে পছন্দ করে। আমি গডে বিশ্বাসী না, যখন যা মন চায় তখন তা ই করি। তারপরও গত সাত বছরে আমরা একবারের জন্য হলেও চেষ্টা করিনি … পাগানদের ভাষায় যা হচ্ছে স্বর্গীয় সুখ, আর আপনাদের ভাষায় যা হচ্ছে ‘নষ্টামি ‘…একটি বারের জন্যও না… আর ঠিক এরকমই ছিল আমাদের ৭ বছরের ভালবাসা। ‘ছিল ‘ বলছি কারণ এখন আর তা অবশিষ্ট নেই।

আমি বাথরুমে ঢুকেছিলাম ভোর ৪ টা বাজার কিছুক্ষণ আগে… মুখ ধুয়ে শেষ বারের মতো নিজেকে আয়নায় দেখছিলাম … দাড়ি গোফ বড় লাগছিলো খুব, উপরের ঠোঁট দেখতে পাচ্ছিলাম না, চুলগুলো ছিলো এলোমেলো .. তেল না দেওয়ার কারণেই কিনা জানি না, লালচে লালচে দেখাচ্ছিল … আর চোখগুলোর নিচে কালো কালো দুটি ছোপ.. তারপরও খুব শান্ত ছিলো চোখজোড়া … মানিব্যাগ থেকে ব্লেডটি বের করেছিলাম ঠিক তারপরেই.. ব্লেডের উপরে লেখা ‘Sharp’। ব্লেডটা কিনেছিলাম রাত সাড়ে দশটায়। তন্দ্রাদের বাসায় যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে, বাস থেকে নেমেই। ব্লেড কিনার পর হাতে নিয়েই মনে হলো, ২২ বছরের জীবনে এইটাই হচ্ছে আমার কিনা প্রথম ব্লেড। আমি ব্লেডটা ম্যানিব্যাগের সাইড পকেটে রেখেই ফোন দিয়েছিলাম তন্দ্রার বাবাকে। রাত তখন বাজে ১০টা ২০.. আমি বললাম, “স্লামালাইকুম…আমি চান্দিনায় এসেছি”। কান্নাতাড়িত কন্ঠে নাক টানতে টানতে তিনি আমাকে বললেন, “কোথায় তুমি? “

– আমি পালকি সিনেমা হলের সামনে। আজকে অনেক রাত হয়ে গিয়েছে, আমি আগামীকাল সকালে আপনার সাথে দেখা করতে চাচ্ছি।

– রাতে কোথায় থাকবা তুমি?

– আমি আমার ব্যবস্থা করে নিয়েছি, আপনি এ বিষয়ে চিন্তিত না হলেও চলবে।

তিনি বিড় বিড় করে কি যেন বললেন, তারপর কলটি কেটে দিলেন। আমি আমার রাতের থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছিলাম .. বন্ধ করা একটি দোকানের শিকল দিয়ে বেধেঁ রাখা বেঞ্চের উপর। খুব ক্ষিধে লাগছিল তখন, সারাদিনে এক বেলা খেয়েছিলাম সেদিন। আর তার থেকেও বেশী লাগছিল পানির পিপাসা। দোকানের পাশেই একটি টিউবওয়েল ছিল, সম্ভবত সেই পানির আর্সেনিকের মাত্রা ১০ এর কাছাকাছি হবে। আমি মুখে দিতেই মনে হলো আমি লোহার গুড়া মিশানো পানি মুখে দিয়েছি। ঐ পানি দিয়ে হাত – মুখ ধুয়েই ঢক ঢক করে পানি খেতেই মোবাইল ২য় বারের জন্য বেজে উঠেছিল। এবার কল করেছে তন্দ্রা, যার কারণে আমার এতোদূর ছুটে আসা। যার প্রতিটি কথার পরের কথা আমি জানতাম কি হবে। যার কাছে গেলেই আমি একটি অদ্ভুত ঘ্রাণ পেতাম, চোখ বন্ধ করে বুঝার চেষ্টা করতাম ঘ্রাণটা কিসের .. যাকে একা পেলেই দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরতাম খুব জোড়ে, দম নাকি তার বন্ধ হয়ে আসতো তারপরও ছাড়তাম না… যে কিনা অন্য কোনো মেয়ের ফিগার দেখে আমার উত্তেজিত হবার কথা বলার আগেই আমার গালে কষে সবার সামনে থাপ্পড় দিয়ে দিত। আমি তখন আশপাশে কেউ দেখছে কিনা নিশ্চিত হয়ে অই মেয়ের ফিগারের বাকি আলাপটুকু নিরাপদ দুরত্ব থেকে শেষ করার চেষ্টা করতাম। যে কিনা তার মন মতো কথায় সায় না দিলেই ‘থু ‘করে একদলা থুতু দিয়ে দিত আমার মুখে অথবা গালে.. কোন কোন সময় আমার গায়ে আর মাঝে মাঝে আসেপাশে কেউ না থাকলে একেবারে আমার মুখের ভিতরে। আরো একজায়গায় থুতু অবশ্য দিয়ে দিত মাঝে মাঝে, তা আমি আর বলতে চাচ্ছি না। না হয় এই লেখা আবার রসময় গুপ্তের সাহিত্যে পরিণত হয়ে যাবার আশঙ্কা আছে। যাইহোক তার থাপ্পড়ের চাইতেও এই থুতু দেওয়ার ভয়ে আমি তটস্থ থাকতাম বেশিরভাগ সময় কিনবা অপেক্ষা করতাম ঠিক এটার জন্যই…

টিউবওয়েলর পানি মুখ থেকে মুছতে মুছতে ভাবছিলাম এই মেয়ে শেষ আমার গায়ে থুতু মেরেছিল ১৩ই নভেম্বর, আর আজ ১৭ই নভেম্বর … ৫ দিন … মাত্র ৫ দিনে আমার জীবনের সবথেকে সুন্দরতম অধ্যায় শেষ হয়ে যাচ্ছে … মাত্র ৫ দিন …আর এদিকে মোবাইল ভাইব্রেট করেই যাচ্ছে …

TO BE CONTINUED …