একটি গান, আজকের সকাল… আর কিছু অভিব্যক্তিহীন অনুভূতি…

Donnie Darko facebook timeline cover 849 X 312 Donnie,Darko

Donnie Darko’ মুভিটা দেখেছিলাম গত পরশুদিন। আমি আবার IMDB এর রেটিং না দেখে কোন ছবি দেখি না। ‘Donnie Darko’ এর রেটিং দেখলাম 8.1, তাই দেখতে বসেছিলাম। পুরো ছবিটা এতোটা আহামরি না, তবুও একটা টান রয়েছে। যাই হোক ছবির রিভউ লিখতে আমি বসিনি। আমি বসেছি ছবির Ending সংটা নিয়ে কিছু কথা বলতে।

Mad_World_Tears_for_Fears

গানটা নেওয়া হয়েছিল  ‘Tears for Fears’ ব্যান্ডের ‘Mad World’ এ্যালবাম থেকে। Tears for Fears এর ‘Mad World‘ গানটি ১৯৮২ সালের ‘UK Singles Chart’ এর ৩ নম্বর পজিশনে পৌছেছিল। মজার বিষয় হচ্ছে এই গানটির লিরিক আমেরিকান সাইক্রিয়াটিস্ট ‘Arthur Janov‘ এর ‘The Primal Screamবইয়ের কিছু থিউরির  উপর নির্ভর করে  লিখা হয়েছে। গানের “the dreams in which I’m dying are the best I’ve ever had” লিরিকটি দিয়ে বুঝানো হয়েছে, তীব্র কিছু অভিজ্ঞতা যেমন ‘মৃত্যু’ আমাদের টেনশনকে মুক্তি দিতে পারে, সহজ করে দিতে পারে অনেক সমাধানই।The_Primal_Scream,_1977_ABACUS_edition

গত দুই দিন ধরে আমার মাথায় গানটি বেজেই যাচ্ছিল। ছবিটার শেষে এই গানটার কারণেই আমার কাছে ছবিটা অসাধারণ লেগেছে, তা না হলে হয়তোবা মুভিটা ভালোই লাগতো না। হয়তো ফালতু মুভির কাতারে ফেলাতাম। মোট কথা গানটি জেঁকে ধরেছে একেবারে ভিতর থেকে। আজ সকালে ঘুম ভেঙ্গেছেও এই গানের স্বপ্ন দেখে। তাই ঘুম থেকে উঠার আগেই ঘুম ঘুম চোখে এই গানটা ডাউনলোড দিয়েই বিছানা থেকে উঠেছি। তারপর গোসল করার পর থেকে অফিসে আসার আগ পর্যন্ত টানা শুনে গিয়েছি গানটা। গানটা শোনার পর থেকে রাস্তায় যা যা দেখেছি তাই মিলানোর চেষ্টা করেছি… এবং পেরেছিও। যেমন যখন বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসলাম, তখন এই হরতাল আর লং মার্চের দিনেও জনগনকে যখন দেখলাম কর্ম ব্যস্ততায় থেমে নেই তখন

“Bright and early for their daily races Going nowhere…Going nowhere…”

লাইনটা মাথায় হাতুরির মতো হালকা গতিতে আঘাত করছিল। হাতিরঝিল পেরিয়ে এফ.ডি.সি. পার হয়ে আমার রিকশা  যখন কাওরান বাজারের মোড়ে যাচ্ছিল, তখন দেখলাম ‘হেফাজতে ইসলাম’ এর ডাকে সারা দেওয়া মানুষের একটা লম্বা মিছিল স্লোগান মুখর হয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। ‘নাস্তিকদের ফাসি চাই’ ব্যানারে এগিয়ে যাচ্ছিল আমার রিকশার পাশ ঘেষে.. সত্যি কথাই বলবো.. লাইফে এই প্রথম আমার বুকের ভিতরে ছ্যাঁত করে উঠেছিল এক অজানা আতঙ্কায়। কিন্তু তখনও আমার কানে বেজে যাচ্ছিল ‘Mad World’ গানটি.. ভিতর থেকে বোঝার চেষ্টা করছিলাম গানের প্রতিটি অর্থ। সবারই একটা দাবি রয়েছে..  প্রতিটি মানুষের, প্রতিটি গোষ্ঠির, প্রতিটি জাতির.. এবং সব দাবির পিছনেই সবার ভিন্ন ভিন্ন লজিক রয়েছে, যা কখনোই অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয়… সবার আলাদা আলাদা চাওয়া যখন একই বিন্দুতে এসে পরে তখন হয়তোবা আমাদের ভিতরেই একটা সংশয় দেখা দেয়… একটা অজানা ভয়ের সংশয়। সবাই যখন নিজের দাবিতে অনড় থাকে অভিব্যাক্তিহীন ভাবে, তখন কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতে হয় ‘সেক্রিফাইস’ এর জন্য। স্বপ্ন হয়তো স্বপ্নই থেকে যায় তার.. তবুও করা লাগে ‘সেক্রিফাইস’..

“Their tears are filling up their glasses
No expression
No expression
Hide my head I wanna drown my sorrow
No tomorrow
No tomorrow
And I find it kind of funny
I find it kind of sad
The dreams in which I’m dying are the best I’ve ever had
I find it hard to tell you
I find it hard to take
When people run in circles it’s a very very
Mad world
Mad world
Mad world
Mad world

 যদিও গানটাকে শোক সঙ্গিত হিসেবে মুভিটাতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে তবুও আমার কাছে এই গানটার একটা আলাদা অর্থ তৌরি হচ্ছে মনের অজান্তেই…

ডাউনলোড লিঙ্কঃ এখানে ক্লিক করুন

Advertisements

একটা চিঠি এবং হাস্যকর কিছু অভিব্যক্তি…

এই চিঠিটা আমি দেখতে পেয়েছিলাম একটু আগে ফেইসবুকের একটি ফ্যানপেজে। ফ্যানপেজের নাম উল্ল্যখ করে তাদের প্রমোশন বাড়াতে চাচ্ছি না। তাই নাম উল্ল্যখ করলাম নাম। চিঠিটার একটা কপি আপনাদের দেখাচ্ছি। কিভাবে নিবেন তা আপনার বিষয়। কিন্তু আমি কিছু কথা বলতে চাই এবং তা হয়তোবা চিঠিটার মতোই আপনাদের কাছে হাস্যকর ঠেকাবে। তারপরও লিখছি, মনটাকে হালকা করার জন্য…

আমি এই পোষ্ট টা শেয়ার করছি ফান হিসেবে ধরে নয়, বরং আমার ছবিটা ভালো লেগেছে দেখে পোষ্ট করেছি। আমি জানি না চিঠিটা ফাজলামি করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে লেখা হয়েছে কিনা। যদি তা না করা হয়ে থাকে, তাহলে আমি এই চিঠির প্রাপক এবং গ্রাহক উভয়কেই স্যালুট জানাচ্ছি। আপনারা অনেকেই হয়তো যতটা না মজা নিয়ে হাসাহাসি করে চিঠিটার মজা নিচ্ছেন, ঠিক তাঁর বিপরীতে শতগুণ মমতা দিয়ে হয়তো চিঠিটা লেখা হয়েছিল। সেই মমতার ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রাংশের ভাগ হয়তো আপনারা না পেলেও ওই চিঠির গ্রাহকটি ঠিকই পেয়েছে। হতে পারে চিঠিটির গ্রাহক এবং প্রাপক হত দরিদ্র ঘরের একজন মানুষ। হয়তোবা চিঠিটার প্রাপক একজন দিনমজুর, যে কিনা তাঁর সারাটা দিনের পরিশ্রম শেষে যখন তাঁর ময়লা বিছানার চাদর এবং তেল চিটচিঠে বালিসে মাথাটা রেখে গ্রামের বাড়িতে যাবার প্রহর গুনে তখন শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরে রাখে সেই চিঠিটা। ক্লান্ত… শ্রান্ত দেহে ঘুমনোর আগেই স্বপ্ন দেখতে থাকে তাঁর প্রিয়জনকে নিয়ে। হয়তোবা সে তখন তাঁর অশ্রুমিশ্রিত ঝাপশা চোখে স্পষ্টভাবে দেখতে পায় তাঁর প্রিয়জনের কাঙ্ঘিত মুখটি… যে মুখটি হয়তো সে ধরতে চাইলেও অনেকদিন ধরে ধরতে পারে না… হাতদুটো ধরে বসে থাকতে পারে না। তাই অদ্ভুত একটা শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে চিঠিতে লেখা অক্ষর গুলোতে। প্রতিটা অক্ষর হয়তোবা তখন তাঁর ছুয়ে দেখতে ইচ্ছে করে। অক্ষরগুলোকেই হয়তোবা তখন তাঁর কাছে তাঁর প্রিয়জনের হাতের আঙ্গুল বলেই মনে হয় যে আংগুলোতে কিনা সে এখনো তুলে দিতে পারে নাই নতুন একটা জামা… বা তাঁর নিজের জন্য একটা…

 দীর্ঘদিনের জমাটবাধা একটা কষ্ট নিয়ে হয়তোবা সে ঘুমিয়ে পরে একটা সময় এসে…

.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।

কি হাস্যকর একটা অনূভুতি… তাই না ?

Protected: গত দুই দশকের গ্র্যামী এওয়ার্ড প্রাপ্ত সেরা কিছু গানের অসমাপ্ত তালিকা

This content is password protected. To view it please enter your password below: